হঠাৎ স্বর্ণের দাম বেড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন ট্রেজারির বন্ড পুনঃক্রয় বা বাইব্যাক পরিকল্পনার প্রভাবে ডলারের দরপতন হয়েছে। এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টেকনিক্যাল স্তর অতিক্রম করায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহে স্বর্ণের দাম বাড়ার পথে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯০ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দাম বেড়ে ৪ হাজার ৬০৪ দশমিক ১৮ ডলারে উঠেছিল, যা ১৫ মে’র পর সর্বোচ্চ। মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৭ ডলার।
এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বুধবার ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকের পর একদিনে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি দেখা যায়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক সংকেত দেখা যাচ্ছে। ধাতুটির দাম এখন সব প্রধান মুভিং অ্যাভারেজের ওপরে লেনদেন হচ্ছে। এমনকি প্রায় ৪ হাজার ৫১৩ ডলারে থাকা বহুল আলোচিত ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজও অতিক্রম করেছে স্বর্ণ। টেকনিক্যাল বিশ্লেষকেরা সাধারণত এটিকে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সংকেত হিসেবে দেখেন।
টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির গ্লোবাল হেড বার্ট মেলেক বলেন, স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে প্রযুক্তিগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই গতি অব্যাহত থাকলে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ৪ হাজার ৭০০ ডলার। তবে এর পাশাপাশি মার্কিন ডলারের দরপতনও বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।
মে মাসের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি নেমেছে ডলারের দাম। বন্ড বাজারকে স্থিতিশীল করতে মার্কিন ট্রেজারির নেওয়া পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ডলারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার ট্রেজারি বাইব্যাক আরও বাড়াতে পারে। এর একদিন আগে ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের বাইব্যাক দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
এদিকে, গোল্ডম্যান স্যাক্স এক নোটে জানিয়েছে, বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের হেজিং চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে স্বর্ণের কল অপশনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী—দুই ধরনের পরিবর্তনই আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাক্স আরও বলেছে, জুলাইয়ে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা এবং দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন সুদের হার বাড়ার বিষয়ে বাজারের আস্থা কমেছে। এতে কমেক্স গোল্ডে ফটকাবাজি বিনিয়োগ এবং সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল গোল্ড ইটিএফে চাহিদা আবার বেড়েছে। কল অপশনের বাড়তি চাহিদা এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে স্বর্ণের বাস্তব চাহিদার ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভারতে খুচরা ক্রেতাদের আগ্রহ কমেছে। অন্যদিকে, বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ভোক্তা চীনে চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জুলাইয়ে স্বর্ণ কেনার পরিমাণ কমিয়ে ৭ দশমিক ৮ মেট্রিক টনে নামিয়েছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে, স্পট রুপার দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৯৭ দশমিক ৩৬ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪২ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। সাপ্তাহিক হিসাবে সবগুলো ধাতুর দামই বাড়ার পথে রয়েছে।






