চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের উদ্যোগে ‘বার্ষিক লেখক সম্মাননা ও আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তরুণ লেখকদের জন্য লেখালেখি, ইংরেজি রচনা ও অনুবাদ সাহিত্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা এবং গুণী লেখকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শামসুদ্দীন ইলিয়াস। এ সময় তিনি তরুণ লেখকদের ইংরেজি লেখালেখি ও অনুবাদ সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকরা তরুণ লেখকদের উদ্দেশে লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চবি সিনেট সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারি হেলাল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ কলাম লেখকরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশে তরুণ লেখকদের সততার সঙ্গে কলম ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এস কে আজিজুল বারি হেলাল বলেন, লেখনীর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ক্ষণস্থায়ী লেখার পরিবর্তে গভীর চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন স্থায়ী সাহিত্য সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একজন ভালো লেখক হওয়ার জন্য নিয়মিত পাঠক ও সচেতন শ্রোতা হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সাঈদ আল নোমান বলেন, চিন্তার স্বাধীনতা ও গভীরতা বাড়াতে নিয়মিত লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। মানুষের চিন্তাই তার কর্ম ও ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে। আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার পরিবর্তে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল চিন্তা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সক্ষমতা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের সাধারণ লক্ষ্য অতিক্রম করে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আই. এইচ. ইমন অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা করা সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার, পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রমুক্ত করা এবং মেজর সিনহা হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী লেখকদের বার্ষিক পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়






