ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয় এবং এক কোটি ডলার পুরস্কারের কথাও বলা হয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নজরে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং সিএনএনকে বলেন, ভিডিওটি সম্পর্কে আমরা অবগত। আমাদের সুরক্ষাধীন যেকোনো ব্যক্তির প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এমন সব বিষয় আমরা তদন্ত করি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় না।
প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওটির শুরুতে ইংরেজিতে একটি গ্রাফিক দেখানো হয়—‘হোয়ার টু কিল ব্যারন ট্রাম্প?’ অর্থাৎ ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে। এরপর ব্যারন যেসব জায়গায় প্রকাশ্যে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়, সেসব স্থানের গ্রাফিক দেখানো হয়। এর মধ্যে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারও রয়েছে। ভিডিওর শেষে বর্ণনাকারী বলেন, মানুষ এক কোটি ডলারের পুরস্কার পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
সপ্তাহান্তে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এই ভিডিওটি প্রচার করে। সংস্থাটি দেশটির কট্টরপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে বিবেচিত হয় এবং এর প্রধানকে সরাসরি নিয়োগ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।একজন মার্কিন ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ভিডিওটি ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে প্রকাশিত ধারাবাহিক ভিডিওর অংশ। এসব ভিডিওতে প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যদের চলাচলের তথ্য এবং হত্যার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তা আরও বলেন, সিক্রেট সার্ভিস, অন্যান্য সরকারি সংস্থা, স্থানীয় পুলিশ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া নিরাপত্তা তথ্যের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে নিজের জীবন নিয়ে ইরানের হুমকির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, আমি যেকোনো তালিকায় আছি… এখন পর্যন্ত হয়তো কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম, কিন্তু সেটা হয়তো বেশি দিন থাকবে না। এরা দুষ্ট ও অসুস্থ মানসিকতার মানুষ।
ওই মন্তব্যের আগে ইরানের হুমকির কারণে ট্রাম্পের একটি গোপন সফর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হুমকির পর বিকল্প সামরিক বিমানে তাকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হয়।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার সতর্ক করে আসছে যে, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আয়োজিত শোকসভায় ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এমনকি সেখানে তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া নিশ্চিত করতে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও প্রচার পায়।






