স্বামী তৌফিক নাওয়াজ গত ১৮ আগস্ট রাতে মারা যান। তাই এখন আর বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির। তিনি আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ এসব কথা বলেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আজকে তার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল।
দিপু মনি বলেন, আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।
ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি। তাকে ট্রাইব্যুনাল কথা বলার অনুমতি দেন। পরে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে দীপু মনি এসব কথা বলেন।
দীপু মনি বলেন, এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি। আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্বপালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দ্ ুবছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, তারা খুবই ব্যথিত। দীপু মনির আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু তাদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।






