জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অফিসের কার্যালয়ে গৃহীত অর্থের সমন্বয় বিল, অগ্রিম গ্রহণের পর অনুমোদন সংশোধন এবং ইনকাম ট্যাক্স ট্রেজারিতে জমাদানে সৃষ্ট সমস্যাসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার সার্বিক আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগে উপাচার্যের সচিব গৌতম কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি কমিটি।
গত ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। আদেশে কমিটিকে আগামী ১৫ (পনেরো) কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গঠিত তদন্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) অধ্যাপক মো. সোহেল রানা-কে সভাপতি এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজাকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপাচার্য অফিস কর্তৃক গৃহীত অর্থের সমন্বয় বিল সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, আগাম গ্রহণের ক্ষেত্রে অনুমোদনের পর কাটাকাটি করে সংখ্যা পরিবর্তন এবং ইনকাম ট্যাক্স হিসেবে ট্রেজারিতে জমাদানে সৃষ্ট সমস্যাসহ যাবতীয় আর্থিক অসংগতির পূর্বাপর সকল তথ্য উদ্ঘটন ও তদন্তের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অফিসসূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার অফিসে প্রথম উপাচার্যের সচিবের বিরুদ্ধে এই হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রথমে আনুমানিক ২ লাখ টাকার অনিয়ম উন্মোচিত হলেও পরবর্তীতে অনুসন্ধানে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাবের হেরফের পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট সভা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তদন্ত কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সিটিং অ্যালাউন্স থেকে নানা কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কৌশল ছিল— সভায় উপস্থিত ছিলেন না এমন ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা এবং বিলে টাকার অংক পরিবর্তন করে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেওয়া। এছাড়াও উপাচার্য স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাসকৃত অর্থের পরিমান জালিয়াতি করে বৃদ্ধি করে তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তিনি, কাটাকাটি করে অর্থের পরিমাণ সংখ্যা বৃদ্ধি করে লিখেছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপাচার্য সচিব গৌতম কুমার বিশ্বাসের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সারা দেননি।
সার্বিক বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, আমাদের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। দুটো মিটিং হয়েছে। আমরা আগামী দুয়েকটা মিটিংয়ে শেষ করতে পারব আশা করি।






