ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে ক্রিকেটারদের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের এ ব্যাপারে কথা বলানোর বা তাদের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সতর্কতা বলে জানা গেছে।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দী। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান অনেক তারকা ক্রিকেটার কথা বলেছেন। ফলে ইংল্যান্ড সফরে থাকা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদেরও ইমরানকে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে। ম্যাচের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসে সাক্ষাৎকার দেন ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ইসা খান ও কাসিম খান। সাক্ষাৎকারে বাবার কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের কথা সম্প্রচার নিয়ে আপত্তি জানায় পিসিবি।
এমনকি সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হলে পাকিস্তান দল মধ্যাহ্ন বিরতির পর মাঠে নাও ফিরতে পারে—এমন হুমকি দেওয়ার খবরও এসেছিল। পরে অবশ্য পাকিস্তান দল মাঠে ফেরে এবং খেলা চালিয়ে যায়। পাকিস্তান টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদও জানিয়েছিলেন, মধ্যাহ্ন বিরতির সময় ক্রিকেটাররা সাক্ষাৎকারটি দেখেননি।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, ইমরান খানকে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে ক্রিকেটারদের রাজনৈতিক বিষয়ে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি। বোর্ডের আশঙ্কা, এ ধরনের মন্তব্য ক্রিকেটের বাইরে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে এবং ইংল্যান্ড সফরে দলের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
ইমরান খান পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক। ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর থেকে দেশটির রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছেন।
ইংল্যান্ড সফরে লিডসের পর লর্ডস টেস্টও হেরেছে পাকিস্তান। বাবর আজমের দলের শোচনীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইমরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও এখন আলোচনায়।





