ঢাকা   সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ভারত ‘বিশ্বগুরু’, ভারতীয়দের দেখলে মানুষ নমস্কার করে: আরএসএস প্রধান

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ এএম

ভারত ‘বিশ্বগুরু’, ভারতীয়দের দেখলে মানুষ নমস্কার করে: আরএসএস প্রধান

ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির উগ্র কট্টরপন্থি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেছেন, বিশ্বের যেকোনও দেশে একজন সাধারণ ভারতীয় গেলেও সেখানকার মানুষ তাকে নমস্কার করে। তার দাবি, ভারত কোনও দেশ দখল করে বা আধিপত্য বিস্তার করে এই মর্যাদা অর্জন করেনি; বরং মানবতার সেবা, জ্ঞান ছড়িয়ে এবং বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখানোর মধ্য দিয়ে ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কানাডার টরন্টোতে ‘হিন্দু বিশ্ব বন্ধু—বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেয়া’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন ভাগবত। এসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়ন ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য ভারত ঐতিহাসিকভাবে আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভাগবত বলেন, ‘ভারতকে কেউ পরাশক্তি (সুপারপাওয়ার) বলতে পারেন, কিন্তু ভারত কখনোই পরাশক্তি ছিল না। ভারত বিশ্বকে সেবা করেছে এবং নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণেই ‘বিশ্বগুরু’ হয়েছে, ‘পরাশক্তি’ নয়।’

আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটে ভারত অতীত ও বর্তমান—দুই সময়েই কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন ভাগবত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের শরণার্থীদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, জামনগরের মহারাজা তাদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। পরে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সরিয়ে আনার ঘটনাও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, যুদ্ধের এলাকায় আটকে পড়া শুধু ভারতীয় নাগরিকদেরই নয়, আরও সাতটি দেশের নাগরিকদেরও ভারতীয় সামরিক পরিবহন বিমানে করে উদ্ধার করা হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, ‘কয়েক বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় মানুষ সেখানে আটকা পড়েছিল। তখন ভারতের সামরিক বিমান সেখানে গিয়ে শুধু ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার করেনি; আরও সাতটি দেশের নাগরিককেও সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।’

ভাগবত বলেন, ইতিহাসে মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি ও পারসিরা ভারতে শান্তিপূর্ণভাবে আশ্রয় ও জ্ঞান লাভের সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে তাদের নিপীড়নের শিকার হওয়ার ভয় ছিল না। বিশ্বের কোনও জায়গায় কেউ নিপীড়িত হলে সে ভারতে আশ্রয় পেয়েছে।

ভারতের ঐতিহাসিক বৈশ্বিক ভূমিকার সঙ্গে সাম্রাজ্য বিস্তারের পার্থক্যও তুলে ধরেন ভাগবত। তার মতে, ভারতীয় সভ্যতা অন্য দেশ দখল করার বদলে জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা মেক্সিকো থেকে সাইবেরিয়া পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন। তারা পায়ে হেঁটে হিমালয় পেরিয়েছেন, ছোট নৌকায় করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গেছেন। কিন্তু কোনও দেশ দখল করেননি। তারা জ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদ ও সভ্যতার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়েছেন।’

ভাগবত আরও দাবি করেন, ‘আজও একজন সাধারণ ভারতীয় যেকোনও দেশে গেলে সেখানকার মানুষ তাকে নমস্কার করে।’

বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো ভারতের সভ্যতার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কেউ সাহায্য চাইলে ভারত কখনোই তা প্রত্যাখ্যান করেনি। অনেক সময় সাহায্য চাওয়ার আগেই ভারত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই ঐতিহ্য। এটাই ভারতের ডিএনএ।

মানবতার অন্তর্নিহিত ঐক্যকে স্বীকার করে বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার আহ্বানও জানান ভাগবত। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন দর্শনে বৈচিত্র্যকে স্বাভাবিক এবং ঐক্যকে মৌলিক সত্য হিসেবে দেখা হয়।

তিনি বলেন, ‘অনেক জাতি, অনেক মত, অনেক ভাষা রয়েছে। সবকিছুই বৈচিত্র্যময়। প্রকৃতি ও বাস্তবতার প্রকাশ বৈচিত্র্যময়। বৈচিত্র্যই স্বাভাবিক। ঐক্যই বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে মনে রেখে আমাদের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। এটাই ভারতের প্রাচীন দর্শন।’

মানুষের চেহারা বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য থাকলেও মূল সত্তায় সবাই এক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর এই উপলব্ধি থেকেই অন্যের সেবা করাকে কর্তব্য হিসেবে দেখার কথা বলেন ভাগবত।

তিনি বলেন, ‘তাই অন্যের সেবা করা আমাদের কর্তব্য। আমরা এমন একটি জ্ঞান অর্জন করেছি, যা আমাদের স্থায়ী সুখ ও তৃপ্তি এনে দেয়।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন