বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে চলমান বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক সংকট। বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই।
আজ মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে সরে যাননি। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন।
তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি এবং নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সব বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সংগঠিত হন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম একপর্যায়ে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া জনগণের কাছে গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তাঁর আদর্শ, সাহস, রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনা সামনে রেখেই বিএনপি কাজ করছে। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আদর্শ এবং খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পর উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, হার্ভেস্ট কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে এবং তা সমাধানে কাজ চলছে।
রিজভী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নির্ধারিত বাজেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এসব সংকট মোকাবিলা করে দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি। ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দল ও সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা হলেও তারা পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করায় দলের যোগ্য নেতাকর্মীদের রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণের কাছে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে দল তার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।






