ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সড়কবাজারে দীর্ঘদিনের যানজট ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার সমস্যা নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেছে পৌরসভা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ হকারদের পুনর্বাসনের আওতায় ৯৮টি নির্দিষ্ট অস্থায়ী বসার স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য করা হয়েছে পৃথক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
সোমবার দুপুরে সড়কবাজারের বাইতুল আমান জামে মসজিদ সংলগ্ন বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের জায়গায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ হকারদের জন্য নির্ধারিত অস্থায়ী বসার স্থানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে লটারির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পুনর্বাসনের আওতায় থাকা ৯৮ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ফল ব্যবসায়ী, ডিম ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতারা রয়েছেন। নির্দিষ্ট স্থানে তাদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, ফুটপাত থেকে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের ফলে পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করায় সড়কের ওপর যত্রতত্র মোটরসাইকেল রাখার প্রবণতাও কমবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ বলেন, দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আখাউড়া সড়কবাজারের চিত্র অনেকটাই বদলে যেতে পারে। তিনি উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু, আখাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় অন্যান্যরা বলেন হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক পার্কিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সড়কবাজারে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ফুটপাত দিয়ে মানুষের চলাচলও স্বাভাবিক হবে। উদ্যোগটি নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যকর রাখা গেলে দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।এর পাশাপাশি সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করতেও দাবি জানিয়েছেন তারা।






