বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে বিএনপির দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন তিনি। ৬০ বছর বয়সী মুজিবুর রহমান ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালে অবসর নেন।
জবানবন্দিতে মো. মুজিবুর রহমান বলেন, হাসানাত আবদুল্লাহ ও পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহর নির্দেশে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করেন।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আমি বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ওইদিন পয়সার হাট এলাকায় চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সন্ধ্যা ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ‘রণপাহারা’ ডিউটি ছিল। ডিউটি শেষে আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে থানায় এসে জানতে পারি, দুজন লোক মারা গেছে। এরপর অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আমি বাসায় চলে যাই।
তিনি বলেন, ওইদিন বিকেলে পরবর্তী ডিউটি জানতে থানায় গিয়ে দেখতে পাই, পোস্টমর্টেম শেষে দুজনের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। অভিভাবকদের ডেকে মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।
পরে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কানাঘুষা থেকে জানতে পারেন, পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহর নির্দেশে পুলিশ সদস্য জসিম ও মাহাবুল ‘ক্রসফায়ার’ দিয়েছেন। কয়েকদিন পর থানার মুন্সি তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে তাকে কোথায় ডিউটি করেছেন এবং ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন কি না, তা জিজ্ঞাসা করা হয়।
তিনি পয়সার হাট এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে কিছু জানতেন না। কোনো গুলি করেননি এবং ঘটনাস্থলেও যাননি। ডিউটি শেষে থানায় ফিরে আসার পরই বিষয়টি জানতে পারেন। লোকমুখে টিপু ও মিজান নামে দুজনের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। মামলায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, এহসানউল্লাহ, মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেফতার হয়েছেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।






