ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে দীর্ঘ ও জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে, তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান জেসন ক্রো। তার দাবি, ওয়াশিংটন এখন একটি অনুমেয় ‘মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে’ আটকে গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ক্রো বলেন, ‘আমরা যা কল্পনা করতে পারতাম, তার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে অনুমেয়। মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়ালে সেটি যে দীর্ঘ ও জটিল সংঘাতে পরিণত হবে এবং আমাদের প্রতিপক্ষরা যে আমাদের আরও গভীরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে; এটি প্রথম দিনেই যেমন অনুমেয় ছিল, আজও তেমনই।’
এদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললার রোববার ইরান যুদ্ধকে ‘কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নভেম্বরে পুনর্র্নিবাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া নিউইয়র্কের এই কংগ্রেসম্যান সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘না, আপনি যখনই যুদ্ধে থাকবেন কিংবা সামরিক উত্তেজনা তৈরি হবে, সেটি অবশ্যই ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। এটি গুরুতর। আমি মনে করি, আমরা সবাই বিষয়টি বুঝতে পারছি।’
তবে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ললার।
তিনি বলেন, ‘ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যাপকভাবে উৎপাদন ঠেকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ললার আরও বলেন, ‘এসব ড্রোন রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।’ সামরিক অভিযানের বড় একটি অংশ ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরান যাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই যুদ্ধের ভয়াবহতা কম করে দেখানোর চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।






