ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মেঘমল্লার বসু নিজের বিষাদ, জীবন নিয়ে হতাশা ও ব্যক্তিগত অপরাধবোধের কথা তুলে ধরেন। স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মায়ের প্রতি গভীর অনুতাপও প্রকাশ করেন তিনি।
পোস্টে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মেঘমল্লার। একই সঙ্গে তার নেওয়া চরম সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে দায়ী না করার অনুরোধ জানান তিনি।
পোস্টটি প্রকাশের পর মেঘমল্লারের শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, সোমবার রাতে মেঘমল্লারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি উদ্বেগজনক পোস্ট দেখে বন্ধু ও সহপাঠীরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকায় তাকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান।
ফরহাদ বলেন, প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর তার অবস্থা উন্নতির দিকে যায়।
হাসপাতালে থাকা তার বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে মেঘমল্লার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন, যেখানে ব্যক্তিগত হতাশা, অপরাধবোধ, পারিবারিক বিষয় ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। পোস্টটি দেখে বন্ধুরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের তাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মেঘমল্লার বসু একাধিক ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেদিন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছিল, তিনি প্রায় ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট একসঙ্গে সেবন করেছিলেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মেঘমল্লার বর্তমানে হাসপাতালের ৬০২ নম্বর কক্ষের ৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।






