সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাকসু সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব সহ চাকসু ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘নব্য কোটার গতি আগুন জ্বালাও একসাথে’, ‘চাকরি নিয়ে তালবাহানা চলবে না’, ‘নিয়োগ নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
চাকসু সহ ছাত্রী সম্পাদক নুসরাত আদন বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে যে অবস্থান ছিল, ক্ষমতায় আসার পর তা পরিবর্তিত হয়েছে। আগে কোটার মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ থাকলেও এখন মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার মাধ্যমে একই ধরনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার ভাষ্য, ভাইভায় নম্বর বেশি থাকলে এর মাধ্যমে অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নিয়োগে দলীয়করণ ও বৈষম্যের অবসান। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করছে।
তিনি দাবি করেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা প্রার্থীদের তুলনায় মৌখিক পরীক্ষায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী প্রার্থীদের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সাইদ বিন হাবিব আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তিনি দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে অভিজ্ঞতা ও মেধার ভিত্তিতে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
চাকসুর সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, অতীতে কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রক্রিয়াও দলীয় নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি দাবি করেন, ১১ ও ১২তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৫০, ১৩ থেকে ১৭তম গ্রেডে ৪০ এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডে ২৫ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের পরিমাণ বাড়লে লিখিত পরীক্ষায় মেধাবীদের সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যোগ করে নিয়োগের ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান।






