চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর তীব্র ঢেউ ও প্রবল স্রোতে নৌকা ডুবে ভারতীয় জলসীমায় ভেসে যাওয়া ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সীমান্তরক্ষীদের টহল দল উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার পর এক বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধারকৃতদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিজিবি-৫৩ ব্যাটালিয়নের (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে মাঝিসহ ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। তারা সবাই শহরের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু মাঝপথে নদী উত্তাল থাকায় প্রচণ্ড ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
নৌকাডুবির পর মো. ওয়াসিম (২৩) নামের এক যাত্রী সাঁতরে চরে উঠতে সক্ষম হলেও অন্য ১০ জন তীব্র স্রোতের তোড়ে ভারতীয় জলসীমায় ভেসে যান। সেসময় টহলরত বিএসএফ-এর একটি স্পিডবোট তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে ১০ জনকেই জীবিত উদ্ধার করে।
বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ৭১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বিষয়টি বাখেরআলী ও ফরিদপুর বিওপি (বিজিবি) কমান্ডারকে অবহিত করেন। পরে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে বিওপি ও বিএসএফ-এর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদেরকে নিজ নিজ স্বজনদের জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকৃতরা হলেন- মো. রাসেল (২৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৬০), সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২) ও তার ২০ দিন বয়সী শিশু সন্তান, সানাউল্লাহ (৯) এবং আল আমিন (৯)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুর (বকরী পাড়া) গ্রামে। তবে এ ঘটনায় একই গ্রামের মো. মোস্তফা (৬০) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রবু বলেন, বিপদের মুহূর্তে বিএসএফের সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশিদের জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করছেন এলাকাবাসী।
শু/বার্তা বাজার






