ঢাকা   শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ পাননি প্রাথমিক শিক্ষক পদে

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ পাননি প্রাথমিক শিক্ষক পদে

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ পাননি প্রাথমিক শিক্ষক পদে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন মিশন আচার্য নামে এক প্রার্থী।

ভুক্তভোগী মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়।

মিশন আচার্য জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিলে জানানো হয়—কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি, তাই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

মিশন জানান, তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। ফলে বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং তখন থেকে সেখানেই ভাড়া বাসায় তারা বসবাস করছেন।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দু’জন নিয়োগপত্র পাননি, যাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর একজন তিনি নিজেই। এদের মধ্যে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৭ তম স্থান অধিকার করেন।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ থেকে বঞ্চিত এ প্রার্থী বলেন, ‘সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশের তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন।’

তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

মিশন আরও জানান, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, জমির দলিল জমা দিলেও হবে। তখন তিনি জমা দেন।

তবে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

মিশন আচার্য বলেন, ‘আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। সরকারের কাছে আমার চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিবেচনার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে কিন্তু জব দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, মিশন আচার্য ও তার বন্ধুরা এসে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত একটা সমাধান হবে বলে আশা করছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে।’

জেলা প্রশাসক জানান, মিশন আচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে বলেছেন। পরিচালকের দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হবে। সে সময় ভালো একটি প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যেন মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পান।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন