ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ও নারী ভোটাররাই হতে পারেন ফল নির্ণায়ক

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:২৮ এএম

৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ও নারী ভোটাররাই হতে পারেন ফল নির্ণায়ক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে মূল ভূমিকা রাখবে নারী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ভোট। প্রতিটি প্যানেল নারীদের ভোট টানতে সুকৌশলে প্রচার চালিয়েছে। ছাত্রলীগ সমর্থকদের ভোট পেতে তাদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রাখেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা। ৩৫ বছর পর আজ বুধবার হচ্ছে এই নির্বাচন।

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। ডাকসু ও জাকসুতে পরাজয়ের পর চাকসুতেও বিজয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় ছাত্রশিবির। অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদল।

এই নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই বেশ তৎপর বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। ছাত্রশিবিরকে জয়ী করতে কার্যক্রম তদারকির জন্য টিম গঠন করে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত। বিএনপি এ ধরনের টিম গঠন না করলেও দলটির কিছু নেতা ছাত্রদলের প্যানেলের কার্যক্রম তদারকি করছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী শিবির প্যানেলের কার্যক্রম তদারকি কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের জনপ্রিয়তা ও সমর্থন কতটুকু বেড়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও পরিষ্কার হয়ে গেছে। আশা করি, চাকসু নির্বাচনেও শিবিরের প্যানেল জয়লাভ করবে। আমি টিমের সদস্য হলেও নানা কারণে খুব একটা সময় দিতে পারিনি।’ শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা করছে ছাত্রশিবির। জামায়াতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন জামান বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের কার্যক্রম তদারকিতে কোনো কমিটি কিংবা টিম গঠন করা হয়নি। তবে বিএনপি নেতারা খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।’ ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন নয়ন বলেন, চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল বিএনপি নেতারা আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। পরামর্শ দিয়েছেন।

আলোচনায় ছাত্রলীগের ভোট
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল ছাত্রলীগের। হলগুলো ছিল তাদের দখলে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগের অনেক নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যান। কিছু নেতাকর্মী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরে মিশে গেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের অন্তত আড়াই হাজার সমর্থক আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই ভোট পেতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিক ছাত্রলীগ সমর্থক বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখা ও ক্যাম্পাসে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। দুই পক্ষ নানাভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা।

নারী ভোট টানতে ভিন্ন কৌশল
ভোটে জিততে নারী শিক্ষার্থীদের ভোট বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। তাদের ভোট প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় একটি ভূমিকা রাখবে। নারীদের সমর্থন পেতে ক্যাম্পাসে পৃথক বৈঠক করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। তাদের পক্ষ থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ‘সংগঠিতভাবে ভোট দেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয় সামাজিক মাধ্যমেও। বিভিন্ন হলের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রচারণায় দুটি প্যানেলের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, জয়লাভ করতে পারলে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।

ভোটের আগে ছাত্রদলের একজনকে বহিষ্কার
চাকসু নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদকে আজীবনের জন্য সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাঁকে বহিষ্কার করে। সূত্র জানায়, সংগঠনের প্যানেলের বাইরের এক প্রার্থীকে সমর্থনের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে চবি ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। মামুন সেই কমিটির একজন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরকে ‘কটাক্ষ’ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মামুন।

ব্যালট নিয়ে ধোঁয়াশা
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপার নিয়ে উঠেছিল অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগ। চাকসুতেও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অনেকে অভিযোগ করছেন, বারবার দাবি জানালেও কোন প্রেস থেকে ব্যালট ছাপানো হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেনি। এতে সংশ্লিষ্ট প্রেস কোনো রাজনৈতিক দলের কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

ভোট গ্রহণ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন
ছাত্রদলের ভিপিপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তাই ভোট গ্রহণ কতটা সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমরা কমিশনকে বারবার বলেছি, ভোট যেন হাতে গণনা করা হয়। কিন্তু কমিশন এই মত উপেক্ষা করে মেশিনে গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোলিং এজেন্ট নিয়েও সমস্যায় পড়ছি। কারণ, কমিশন এক দিন আগে তালিকা দিয়েছে।’

এসব বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ‘ব্যালট পেপার, ওএমআরের বিষয়গুলো টপ সিক্রেট। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করতেই বিষয়টি কাউকে বলা হয়নি।’

নির্বাচনে দুই ধাপে ভোট গণনা হবে। একটি ধাপ পরিচালনা করবে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান এবং অন্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল। ভোট শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা করা হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্র থেকেই ফল ঘোষণা করা হবে। সব কেন্দ্রের ফল পাওয়ার পর ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চার স্তরে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় এক হাজার ২০০ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে সেনাবাহিনী। সোমবার থেকে ক্যাম্পাসে চালানো হয়েছে টহল। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণ শুরুর আগে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। প্রতিটি অনুষদ ভবনে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। আড়াই শতাধিক সিসি ক্যামেরায় তদারকি করা হবে ভোট গ্রহণ। সোমবার ক্যাম্পাসে ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কোনো হুমকি নেই। আশা করি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।’

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন