কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ’র হত্যাকাণ্ড এক বছর পূর্ণতা পেয়েছে। বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও উন্মোচিত হয়নি হত্যার প্রকৃত রহস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় রহস্য উদঘাটনে অগ্নিপরীক্ষায় পড়ে গেলেন সংশ্লিষ্টরা। এনিয়ে সামনে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জও।
গত বছরের এদিন (১৭ জুলাই, ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় এবং ভিসেরা রিপোর্টে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। ক্যাম্পাসে এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনে মাঠে নামে শিক্ষার্থীরা। সাজিদের বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে ইবি থানায় মামলা রুজু করেন। সর্বশেষ সিআইডির কাছে মামলাটি তদন্তাধীন। সিআইডি তদন্ততভার নেওয়ার পরেও দীর্ঘ ১ বছর পার হয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি সাজিদ হত্যার প্রকৃত রহস্য।
জানা গেছে, মামলার তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় শুরুতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া মামলার শুরুর সিআইডি’র কর্মকর্তাও পরিবর্তন হয়ে গেছে। পূর্বের প্রশাসনের অনেকগুলো অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে। যা নতুন করে সব কিছু ইনস্টলেশন করে আগানো নতুন প্রশাসনের নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিসি ক্যামেরার তথ্য না পাওয়া, সাজিদের রুমের তালার চাবি সংক্রান্ত তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং রিপোর্ট সহ আরও কিছু তথ্যের সূত্র ধরে সামনের আগানোর জন্য শিক্ষার্থী ও তাঁর স্বজনরা দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া শাখা সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা মহব্বত হোসেন বলেন, মামলার ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছি, ঘটনাস্থল আশপাশ তদন্ত করছি। আর বেশ কিছু সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, সাক্ষ্য গ্রহণ এখনও চলতেছে। এখনও মামলাটা কোর্টে টেকআপ করার মতো কোনো ফলাফল আসে নাই। আমি নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছি, আর একটু সময় লাগবে, তবে কোনো একটা ফলাফল অবশ্যই উন্মোচন হবে।
এদিকে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বিচারহীনতার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একাধিকবার ভিন্নধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন। কখনও শিক্ষার্থীরা ‘অন্ধের তদন্ত যাত্রা’ নামে প্রতীকী লাশ মিছিল বের করেন, কখনও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে রক্তমাখা লাল কাফন পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।
বংশের একমাত্র ছেলে সন্তান হত্যার বিচার না পেয়ে এখনও দিশেহারা সাজিদের পরিবার। নিহত সাজিদের পিতা বলেন, “সিআইডি তদন্ত করতেছে যতটুকু জানি। তবে আমি কোনো আপডেট জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হয়। তবে তাদের আপডেট কী তা জানি না। নতুন ভিসির সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।”
সার্বিক বিষয়ে কথা হয় সাজিদের বিভাগ আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. জালাল উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও এই অমানবিক ঘটনার কোনো বিচার বা দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ব্যাপারে ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে কোনো রকম গাফিলতি করা হবে না এবং একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে।
একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত মিডিয়া কাভারেজ ও চাপ সৃষ্টি না করা হলে এ ধরণের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে; তাই তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, সাংবাদিকদের ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আগের প্রশাসন কী করে গেছে বলতে পারছি না, আমি নতুন করে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রক্টরকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া আছে।






