কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখন অবহেলা ও অপরিচ্ছন্নতার চিত্র বহন করছে। শহীদ মিনারের বেদি, সিঁড়ি ও আশপাশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অসচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্মৃতিচিহ্ন তার মর্যাদা ও সৌন্দর্য হারাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ওঠার সিঁড়ি এবং সংলগ্ন হাঁটার পথে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, ব্যবহৃত ওয়ান-টাইম প্লেট, টিস্যু এবং গাছের শুকনো পাতা ও ডালপালা ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারের পেছন ও পাশের ঝোপঝাড়ে জমে আছে অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে স্থানটি যেমন তার নান্দনিকতা হারাচ্ছে, তেমনি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এর পবিত্র পরিবেশও।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিফাতুল ইসলাম শাওয়াল বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একটি কথা প্রায়ই শুনতাম, ‘যে শিক্ষার্থী কুবির শহীদ মিনারে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়নি, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের কিছুই অনুভব করেনি।’ সেই ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনারের এমন নোংরা পরিবেশ দেখে সত্যিই খুব কষ্ট হয়। এই পরিস্থিতির জন্য অসচেতন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলাও দায়ী।”
তিনি আরও বলেন, “কুবির এই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যেমন শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি প্রশাসনেরও উচিত এর সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইমা সুলতানা রাতুয়া বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হলো শহীদ মিনার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এটি বেশিরভাগ সময়ই অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থী যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করেন। প্রশাসনের উচিত অনতিবিলম্বে নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতা ও ময়লা সংগ্রহকারী একজন হওয়ায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তিনি বিষয়টি নিজে তদারকি করবেন এবং শহীদ মিনার এলাকায় অতিরিক্ত বড় ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ মিনার পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।’






