অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের তিন দিন আগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি ড. মুহাম্মদ ইনূসকে ‘বিশ্ব বাটপার’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়ে আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।
আনিস আলমগীর বলেন, ‘বিশ্ব বাটপারের কাছ থেকে আমরা এখন একটা অন্য অধ্যায়ে এসেছি। এখন আমরা এই দেশটাকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টা করব। আমরা এই সরকারকেও সহযোগিতা করব, আবার ক্রিটিসাইজও করব।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংবাদিকদের কাজ হলো যখন যে সরকার থাকবে তার ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং খারাপ কাজগুলো নিন্দা করা। সেটাই করে এসেছি। ইউনূসের আমলে যখন করছিলাম, তখন তিনি গ্রেপ্তার করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউনূস যে অপশাসন কায়েম করেছিলেন, ১৮ মাসে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। নিজে চুরিচামারি করে কিভাবে লাভবান হওয়া যায়, তাই নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।’
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের মামলায় আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কোনো বাধা থাকবে না। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
তার পক্ষে স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ ও যেকোনো সময় বিদেশ যেতে পারেন এই বিষয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনের নামঞ্জুর করেন। তবে অপর দুটি আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
পরে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি এই মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১১ মার্চ এই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সে সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিক আনিস আলমগীর ১৫ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ এই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






