ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

নামের কারণে সাড়ে ৩ মাস জেল খেটে মুক্তি পেলেন নির্দোষ যুবক

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

নামের কারণে সাড়ে ৩ মাস জেল খেটে মুক্তি পেলেন নির্দোষ যুবক

নাম এক হলেও ব্যক্তি ভিন্ন। সেই ভুলেই ‘চেক ডিজঅনার’ মামলায় প্রায় সাড়ে ৩ মাস কারাভোগ করতে হয়েছে এক নিরীহ ব্যক্তিকে। অবশেষে আদালতের আদেশে মুক্তি পেয়েছেন নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা মামুন মিয়া।

বুধবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে মুক্তি পান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপি মামুন মিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এই মামলায় আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, আসামিপক্ষ আবেদন করে জানায়, চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাজতি মামুন মিয়া প্রকৃত আসামি নন। ‘মেসার্স পড়ন্ত বেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিকও তিনি নন।

এ বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে আদালত নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানাকে প্রকৃত আসামি শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দিতে জানান, বর্তমানে কারাগারে থাকা মামুন মিয়া (পিতা. মৃত আলী আকবর) এই মামলার আসামি নন। প্রকৃত আসামি হলেন আরেক মামুন মিয়া, যার পিতা সুরুজ মিয়া।

এরপর আদালত ভুল ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা পরোয়ানা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৮ জুন ‘মেসার্স পড়ন্তবেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিক পরিচয়ে এক মামুন মিয়া প্রাইম ব্যাংকের শিবপুর শাখা থেকে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। পরদিন চেকটি ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ উল্লেখ করে ডিজঅনার হয়। পরে ‘বিশ্বাস পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডস লিমিটেড’-এর রিকভারি ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়াছিকুল আজাদ সরকার ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করেন।

মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৯ জুন ঢাকার মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ-৪র্থ আদালত একতরফা রায়ে আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারের পর আসামিপক্ষ দাবি করে, যিনি গ্রেফতার হয়েছেন তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের কোনো সম্পর্ক নেই। আদালতের নির্দেশে তদন্তে নামে শিবপুর মডেল থানা।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাইম ব্যাংকের হিসাব নম্বর ২১৪১১০৮০০১০১০১-এর প্রকৃত হিসাবধারী ‘মামুন মিয়া’, পিতা সুরুজ মিয়া ও মাতা যমুনা বেগম। অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া মামুন মিয়ার পিতা মৃত আলী আকবর এবং মাতা নুরুন্নাহার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকৃত আসামি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। একই এলাকায় বসবাস ও নামের মিল থাকায় ভুল ব্যক্তির কাছে লিগ্যাল নোটিশ পৌঁছে যায়। সরল বিশ্বাসে তিনি সেই নোটিশ গ্রহণ ও সই করেন। পরে ওই ঠিকানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশ ভুল ব্যক্তিকেই গ্রেফতার করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে এসআই মাসুদুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘ধৃত আসামি সহজ-সরল প্রকৃতির লোক। প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, ধৃত আসামি এবং প্রাইম ব্যাংকের হিসাব পরিচালনাকারী ব্যক্তি একই নন।’

 

মামুন মিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বলেন, ব্যাংকের কেওয়াইসি তথ্য যাচাইয়ে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমানে কারাগারে থাকা ব্যক্তি ও চেক প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেড’ ভুল ব্যক্তিকে আসামি করেছে। এটি ইচ্ছাকৃত বা চরম অবহেলার ফল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসামিপক্ষ আদালতে আবেদন করে বলেছে, বাদীপক্ষ মিথ্যা তথ্য ও সাক্ষ্যের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে একতরফা রায় নিয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৯৩, ২১১ ও ৪৬৫ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী মামুন মিয়ার ছোটভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘একজন নিরপরাধ মানুষকে জেল খাটতে হয়েছে। এতে আমাদের পরিবার সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’ তার আরেক ভাই মাসুম মিয়া বলেন, ‘থানার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। একই নাম হওয়ায় এক মামুনের মামলা আরেক মামুনের বিরুদ্ধে গেছে।’

মঙ্গলবার আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা, ভুক্তভোগীর ভাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাই সাক্ষ্য দিলে বিচারক মামুন মিয়ার মুক্তির আদেশ দেন। পরে আজ বিকেলে তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!