জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা থানায় সোহেলী তামান্না হত্যাচেষ্টা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বীথিকে কারাগার পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আজ শনিবার এ আদেশ দেন।
গত ১৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. আমিনুর রহমান সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে বীথিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। গতকাল আসামির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এই মামলার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততা থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেছেন।
গ্রেপ্তার শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে বিচারককে উদ্দেশ করে বীথি বলেন, ‘বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি চাকরি করে সংসার চালাই। আমার বাচ্চা আছে। এত টাকা কই পাব? এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন।’
বীথি আরও বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। শুধু বাবার কারণে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের একটা মেয়ে বাচ্চা আছে। এর আগে আমি একটি মামলায় জামিন পাই। পরে আবার সাজানো মামলা দেওয়া হয়। বারবার এত মামলা দেওয়ার কারণ আমি জানি না। আমি সেদিন আমার বাবাকে জেলখানায় দেখতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়। বাবা হিসেবে তাঁকে দেখতে যেতেই পারি। আমি জুলাইয়ের সময় পার্ট টাইম জবের জন্য সিলেট গিয়েছিলাম।’
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভাটারা থানাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে বের হওয়া মিছিলে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় সোহেলী তামান্না গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর বাম হাতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহেলী নিজেই বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার সঙ্গে আসামি খাদিজা ইয়াসমিন বীথির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন। এজন্য তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।






