রাজধানীর বঙ্গবাজারে আগুন লাগিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির মামলায় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল ইসলাম খান পুলক গত ৪ জুন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। এদিন শুনানিকালে আফজাল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে ২৩৭০ জন দোকান মালিক একত্রিত হয়ে ফুলবাড়িয়ায় বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আফজাল হোসেন নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার দাপটে বঙ্গবাজার এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সেখানকার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তা দুর্নীতির অভয়াররণ্যে পরিণত হয়। যার অনৈতিক সুবিধা সাবেক মেয়র থেকে শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভোগ করতো। তারা ২৩৭০ দোকান থেকে আরও ৫৯১ টি বাড়িয়ে ২৯৬১ টি করা হয়। অতিরিক্ত দোকান বরাদ্দ থেকে তারা ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।
পরর্তীতে ২০১৭ সালে মার্কেট ভেঙ্গে ফেলে ওই স্থানে বহুতল ভবনে পরিণত করার জন্য চার হাজার ৪১২ টি দোকানের ৮ তলা বিল্ডিংয়ের নকশা অনুমোদন করে। ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই সিটি কর্পোরেশন মার্কেট খালি করার জন্য মার্কেট সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেয়। কত বর্গফুটের দোকান হবে, কত দিনের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হবে জানতে চেয়ে মার্কেট সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চিঠি দেয়। তবে সিটি কর্পোরেশন এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেয়নি। পরবর্তীতে আরও দুই দফা মার্কেট খালি করে দিতে সমিতিতে চিঠি দেয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই মার্কেট উচ্ছেদ কার্যাক্রম চালানোর জন্য ৩০০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কেট সমিতি উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করে। ২২ জুলাই উচ্চ আদালত ৬ সপ্তাহ মার্কেটের স্থিতি অবস্থায় রাখতে নির্দেশ দেন। এছাড়া মার্কেট কর্তৃপক্ষ মার্কেট উচ্ছেদ না করতে রীট পিটিশন দায়ের করে। আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের জবাব দিতে বলেন।
হাইকোর্টের স্থিতি অবস্থা বজায় থাকায় আসামিদের অসৎ উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্থ হয়। এজন্য তারা ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল ভোরে মার্কেটে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মার্কেটের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় মার্কেটের কামাল হোসেন রিপন ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






