ঢাকা   রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যবহার হচ্ছে ‘স্টেবল কয়েন’, নেই নজরদারি

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম

রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যবহার হচ্ছে ‘স্টেবল কয়েন’, নেই নজরদারি

ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে নতুন সেলিব্রিটি ‘স্টেবল কয়েন’। যার আবির্ভাব ২০১৪ সালে। ডিজিটাল মুদ্রাকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এটি চালু করে টিথার লিমিটেড নামের এক মার্কিন কোম্পানি। বলা হয়, এটি ডলার পেগড। অর্থাৎ ১ স্টেবল কয়েনের দাম ১ ইউএস ডলারের সমান।

বলা হচ্ছে, ডিজিটাল কারেন্সির দাম ওঠা-নামা নিয়ে ব্যবহারকারীদের স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ। টিথারের পর স্টেবল কয়েন প্রকল্পে নাম লেখায় যুক্তরাষ্ট্রের সার্কেল অ্যান্ড কয়েনবেজ এবং চীনের বাইন্যান্সের মতো ক্রিপ্টোজায়ান্ট কোম্পানি।

এদিকে, প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের গতি ইতিবাচক। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝেও মার্চের প্রথম ১৪ দিনে এসেছে ২২০ কোটি ডলার। এসব অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে আসার সুবাদে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে রিজার্ভ। এজন্য বাড়তি প্রণোদনাও পাচ্ছেন প্রবাসীরা।

তবে, ব্লকচেইন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিস বলছে, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে স্টেবল কয়েনের ব্যবহার বাড়ছে। গত এক বছরে দুইটি প্রতিবেদনে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্টেবল কয়েন দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এই ক্রিপ্টো লেনদেনের সিংহভাগই হচ্ছে টিথার দিয়ে। আর সেই টাকা দেশে উত্তোলন করা হচ্ছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে। এতে সময় লাগছে মাত্র কয়েক মিনিট।

আরেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস বলছে, ক্রিপ্টো অঞ্চল হিসেবে বিশ্বে দাপট বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার। গেলো অর্থবছরে বাংলাদেশে ক্রিপ্টোর গ্রাহকের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১২৫ ভাগ। যার বড় অংশ স্টেবল কয়েনের মতো পিটুপি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে লেনদেনের খরচ কমেছে প্রায় ৪ ভাগ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেছেন, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যদি কিছু করার অনুমতি দেওয়া হয়, তখন বাংলাদেশের মানুষ নিজের সিদ্ধান্তে করে। কিন্তু যখন বিপদে পড়ে, সকল সরকারকে দোষারোপ করে। এখন ধরেন স্টেবল কয়েন, সেটার স্থিতিশীলতা মোটামুটি নিশ্চিত; সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি (সিবিডিসি) অন্য জিনিস, যা নিয়ন্ত্রিত। এটা প্রচুর ওঠা-নামা করবে। এই ঝুঁকি বোঝার মতো সক্ষমতা সাধারণ মানুষের আছে কি না?

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার ও লেনদেন আইনত নিষিদ্ধ হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই অবস্থান বাংলাদেশের, আর বিশ্বে ১৩তম। ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত তরুণদের বড় অংশও এখন বিদেশ থেকে পেমেন্ট আদায়ে ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করছেন। এর বাইরে অনলাইন গেমিং ও বেটিং সাইটে পেমেন্টের জন্যও জনপ্রিয় হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি এড়াতে ব্যবহার হচ্ছে নিত্যনতুন সব গেটওয়ে। তাহলে কি এটিকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

জাইতুন বিজনেস সল্যুশনের চেয়ারম্যান মো. আরফান আলী বলেছেন, এটার বিপরীতে কিন্তু একটা বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশে ঢুকবে। এখন যদি সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা না ঢুকে, তখন এটার ব্যাপারে সন্দেহ আছে। এসব বিষয় ব্যাংক টু ব্যাংক করতে হবে। কিংবা ওই মানি ট্রান্সফার এজেন্সি থেকে বাংলাদেশে বৈধ ডিলারের মাধ্যমে এটা করতে হবে। এর বাইরে করলে এটা হবে না।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রিপোর্টেও ক্রস বর্ডার পেমেন্টে স্টেবল কয়েনের ব্যবহারের কথা এসেছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এর ব্যবহারের শঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া হয়নি। স্টেবল কয়েন নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইন করার পরামর্শ সংস্থাটির।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন