ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘বিগত আমলে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছি, এর স্বীকৃতি কি পেতে পারি না’

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ পিএম

‘বিগত আমলে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছি, এর স্বীকৃতি কি পেতে পারি না’

কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। যদিও দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি তাকে। তবে এ নিয়ে কখনো কোনো আফসোস কিংবা আক্ষেপও করতে দেখা যায়নি। কিন্তু এবার সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার জন্য ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে এক নেত্রীর তোপের মুখে পড়েন এ গায়িকা।

এ ব্যাপারে এখনো সরাসরি কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাননি গায়িকা কনকচাঁপা। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এ গায়িকা।

কনকচাঁপা লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব ফায়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহীম। আর যেকোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারকদের। তাদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান রাখি। আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে, আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার সাধ্যমত। আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখনই উনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবু্ও আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।’

তিনি লিখেছেন, ‘ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান দুঁদে রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পাই। বলা বাহুল্য, সে যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপদসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন, আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মনস্ক মানুষ, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই, যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।’

‘তারপর দীর্ঘ অনেকগুলো বছর বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি, তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকী থাকে, বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুল, লতা-পাতার ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছি। আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি। কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?’

এ গায়িকা লিখেছেন, ‘এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আমার নির্বাচনি এলাকায় কাজ শুরু করি। বছরভর নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি। কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। সেজন্য কে কি ভাবল, তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য একশো পার্সেন্ট। কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে, মানুষের কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন প্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধিমূলক। আমার মনে হয়, যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে আমি নমিনেশন পাই, তারা এখনো এই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘দলের যে কারো অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে। আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে, যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেয়া। অতএব, নমিনেশন ফর্ম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাই বাহুল্য। যাইহোক, আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ, হয় তা খুবই দুঃখজনক।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!