‘স্বপ্নেও ভাবিনি এই বয়সে আমি এত কিছু অর্জন করব। কিন্তু আমার মা ভেবেছিলেন। আজ আমার অভিনয়জীবনের যাত্রা বলি আর গান শেখাসহ সবকিছুর নেপথ্যে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তার চলে যাওয়া আমি কখনওই দেখতে চাই না। মায়ের মৃত্যুর আগে আমার মৃত্যু হোক। পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক।’
মা উপলক্ষে আয়োজিত সন্তানের সাফল্যে ‘গর্বিনী মা’ সম্মাননা অনুষ্ঠানে তাসনিয়া ফারিণের মা সৈয়দা শারমিনকে সম্মানিত করা হয়। সেখানে মায়ের অবদান বলতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ।
তিনি বলেন, ‘আমার অভিনয় জীবন, গান শেখাসহ সবকিছুর পেছনে আমার মায়ের অবদান। কারণ, আমার মা একরকম যুদ্ধ করে আমাকে নাচ ও গানের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। পরীক্ষার মাঝে কোনো কাজ এলে মা আমার বাবার সঙ্গে লড়াই করতেন। মা বিশ্বাস করতেন, আমি লেখাপড়ার মতো অন্যান্য সবকিছুও মেইনটেইন করতে পারব।’
শৈশবের কথা উল্লেখ করে ফারিণ বলেন, “যেহেতু বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, কখনও এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে হয়নি। ক্লাস সিক্সে যখন হলিক্রসে চান্স পেলাম, ঢাকার বাইরে থাকায় মা আমাকে ও ছোট ভাইকে নিয়ে ঢাকা চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর এবং বিইউপি-তে চান্স পেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম বিইউপি-তে বিবিএ-তে পড়তে। মা আমার বাবার সঙ্গে লড়াই করে আমার চাওয়া পূরণ করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কী হতে চাই, কী করতে চাই, মা সবসময় আমার আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অভিনয় পেশা নিয়ে মানুষ বাইরে থেকে অনেক কথা বলে। তারা অল্পতেই জাজ করে ফেলে, অনেক সময় ভুল কিছু ভাবে। কিন্তু আমার মা সবসময় গাছের মতো আমাকে ছায়া দিয়েছেন। আমি চাইবো, মায়ের মৃত্যুর আগে আমার মৃত্যু হোক।”
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






