‘অপূর্ব বাংলাদেশের উত্তম কুমার’, বললেন মহানায়কের ভাতিজি
বিনোদন ডেস্ক : ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রয়াত মহানায়ক উত্তম কুমারের ভাতিজি এবং অভিনেতা তরুণ কুমারের কন্যা ঝিমলি ব্যানার্জি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপূর্বর একটি পোস্টে মন্তব্য করে অভিনেতাকে এমনটাই অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর এমন মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
অপূর্বর একটি পোস্টে মন্তব্য করে ঝিমলি লিখেছিলেন, “তুমি (অপূর্ব) অনেক দূর যাবে। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। তুমি বাংলাদেশের উত্তম কুমার।
সেই মন্তব্যের সূত্র ধরেই এক সংবাদমাধ্যমকে ঝিমলি ব্যানার্জি জানান, অপূর্বর কাজ দেখার পর তার কাছে এমনটাই মনে হয়েছে। এ সময় অভিনেতার নাটকের চরিত্র, সংলাপ ও অভিনয়ের ধরন নিয়েও কথা বলেন তিনি।
অপূর্বর অভিনয় নিয়ে বলতে গিয়ে তাঁর কাজের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথাও জানান ঝিমলি। বাংলাদেশি এই অভিনেতার কাজ তিনি শুধু দেখেননি, বরং বেশ মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করেছেন।
আলাপকালে ঝিমলি ব্যানার্জি বলেন, ‘উত্তম কুমার আমার জ্যাঠা, তার ভাই অভিনেতা তরুণ কুমারের মেয়ে আমি। যে মন্তব্যটা দেখেছেন সেটা আমি করেছিলাম। আমার বয়স ৬০-এর বেশি। একটুও কম কিছু লিখিনি। বরং অপূর্বর কাজ দেখার পর থেকে মনে হচ্ছে কম লিখেছি।
অপূর্বর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপূর্বকে আমি ছোট ভাইয়ের মতো মনে করি। বিগত কয়েক মাস থেকে ওর সব কাজ আমার দেখা হচ্ছে। এমনও হয় রিপিট করে দেখি। তখন থেকেই ওর কাজের প্রেমে পড়ে যাই। আমি ওর সমস্তটা খুঁটিয়ে দেখেছি। ওর গলায় একটা দাগ আছে সেটাও দেখেছি। প্রতিটি চরিত্র সে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। বেশ কিছুদিন ধরে অপূর্বর সব ইন্টারভিউ দেখে বুঝেছি ওর সোল খুব ভালো, যেটা উত্তম কুমারের মধ্যে ছিল।’
শুধু অভিনয় নয়, অপূর্বর চোখের ভাষা ও সহশিল্পীদের প্রতি তাঁর আচরণেও উত্তম কুমারের সঙ্গে মিল খুঁজে পান ঝিমলি।
তাঁর কথায়, ‘অপূর্বর চোখের ভাষাতেও মিল আছে। উত্তম কুমার শুধু নিজের কাজের মনোযোগী ছিলেন না, তার সঙ্গে যে কাজ করতেন তার প্রতিও কেয়ারিং ছিলেন। অপূর্বর সঙ্গে যে হিরোইন কাজ করছে সেও দেখলাম ইন্টারভিউতে বলছে, অপূর্ব থাকলে অর্ধেক চিন্তা দূর হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস অপূর্ব অনেকদূর যাবে। ও ভালো গাইতেও পারে ভালো। ইন্টারভিউতে বলেছে সে গাইতে গিয়ে নার্ভাস ছিল। আমি বললাম ও জয় করে এসেছে। আরো বলতে চাই, ও যেন গান না ছাড়ে। বয়স হলে হয়তো নাচতে পারবে না, কিন্তু গাইতে পারবে।’
অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন ঝিমলি। তিনি বলেন, ‘আমি অপূর্বর সঙ্গে সামনাসামনি একবার দেখা করতে চাই। ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমার কথাগুলো যদি ও শোনে তাহলে হয়তো বলবে, কোথায় মহানায়ক আর কোথায় আমি! কিন্তু আমি একজন শিল্পীর মেয়ে। আমার জ্যাঠা উত্তম কুমার, আমার মাও অভিনয় করত, বাবা তরুণ কুমার। আমার রক্তে শিল্প বইছে। আমার সন্তান সৌরভ ব্যানার্জি সে সিরিয়ালের কাজ করছে। আমি ভুল কিছু বলিনি। উত্তম কুমারের বাড়িতে বসেই কথাগুলো বলছি।’
এদিকে, উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্য ও ভাতিজির কাছ থেকে এমন প্রশংসা শুনে নিজেই চমকে উঠেছেন অপূর্ব।
বিনয়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘এই বিষয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা আমার নেই। এমন মন্তব্য আমার কাছে কল্পনাতীত মনে হয়। যিনি মন্তব্য করেছেন হয়তো ভালোবেসে এবং স্নেহ করে বলেছেন। আমি মনে করি এই বিষয় নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার কোনোদিনও হবে না।’
উত্তম কুমারের মতো কিংবদন্তি অভিনেতার পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে অপূর্বর ক্যারিয়ারে বিশেষ এক প্রশংসা। তবে নিজের বিনয়ী প্রতিক্রিয়ায় অপূর্বই বুঝিয়ে দিলেন, এমন তুলনাকে তিনি সম্মানের পাশাপাশি কতটা বড় দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন।






