চুয়াডাঙ্গা জেলার স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো এক নতুন পালক। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে দীর্ঘদিনের যে দাবি ছিল, অবশেষে তা আলোর মুখ দেখল। দেশব্যাপী ১০টি জেলা হাসপাতালে একযোগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেও এই আধুনিক সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ১০টায় হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। তিনি রাজধানী থেকে একযোগে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের ১০টি জেলার এই আইসিইউ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ভার্চুয়াল পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের সপ্তম তলায় যান এবং সেখানে স্থাপিত আধুনিক আইসিইউ ইউনিটের ফিতা কেটে সরাসরি পরিদর্শন করেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রান্তে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ইউনিট চালুর জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে লক্ষ্য বর্তমান সরকারের রয়েছে, এটি তার একটি চমৎকার উদাহরণ। দীর্ঘদিন এই জেলায় আইসিইউ সেবা না থাকায় মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।”
তবে তিনি শুধু অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে এর সুষ্ঠু পরিচালনার ওপর জোর দেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আইসিইউ চালুর পাশাপাশি এখানে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করাটা সবচেয়ে জরুরি, যাতে রোগীরা সত্যিকার অর্থেই মানসম্মত সেবা পান। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গাবাসীর উন্নত সেবার স্বার্থে বন্ধ থাকা আইসিইউটি ফের চালু করা হলো। আগামী তিন দিনের মধ্যে এর ডিউটি রোস্টার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে। এরপর থেকেই পূর্ণাঙ্গভাবে রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু হবে। তবে তিনিও এই অতি সংবেদনশীল ইউনিটটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ও সুদক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তার কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী এই আয়োজনে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এক মিলনমেলা বসেছিল। অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, ডা. আব্দুর রহমান এবং সার্জারি বিভাগের ডা. এহসানুল হক তন্ময়।
এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলু, জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির মাহবুব আশিক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামালসহ সদর হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে চুয়াডাঙ্গাসহ ১০টি জেলার স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। রেডিও বার্তা-এর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল হলে সংকটাপন্ন রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা বা রাজশাহীর দিকে ছুটতে হবে না। এতে রোগীদের মূল্যবান সময় ও অর্থ—উভয়ই যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত হবে জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসাসেবা।






