নির্বাচনী প্রচার থেকে বিজেপি নেতাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আগে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করার উদ্দেশ্যে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম বাদ যায়। যা নিয়ে রাজ্যটির শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ, চক্রান্ত করে বেছে বেছে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতা এমনও অভিযোগ করেছেন, বাদ যাওয়া মানুষদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে পরে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হতে পারে। এই ঘটনা নিয়ে ফের একবার কেন্দ্রকে নিশানা মমতার। তার হুঁশিয়ারি, ‘…যারা তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে, আমি তাদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’
আজ বৃহস্পতিবার কোচবিহার জেলার মাথাভাঙায় নির্বাচনে প্রচার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এসআইআর যাদের নাম কাটা গেছে তাদেরকে বাদ দেবেন। কিন্তু আমাদের তৃণমূল সরকার থাকলে আমি কাউকে এখান থেকে বাদ দিতে দেব না। যারা তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে, আমি তাদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। বাংলা দখল করে আমরা দিল্লি দখল করব।’
তৃণমূলের প্রতি আস্থা রাখার আর্জি জানিয়ে ভোটার ও রাজ্যবাসীকে মমতা বলেন, ‘আমার ওপর যদি ভরসা, আস্থা থাকে, তবে বিজেপিকে আমি বাংলায় ঢুকে আপনাদের কারও ওপর কোনো অত্যাচার করতে দেব না। আমি যদি মানুষের চোখ দেখে বুঝতে পারি, তবে আমি নিশ্চিত যে, আগে আমাদের যত আসন সংখ্যা ছিল, তার থেকে এবার আসন সংখ্যা আরও বাড়বে।’
কোচবিহারের মাটি থেকে ছিটমহলের প্রসঙ্গটিও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ইস্যুতে নিজের কৃতিত্ব দাবি করে মমতা বলেন, ‘আপনাদের এখানে ছিটমহল রয়েছে। আমিই ছিটমহল অধিগ্রহণ করে দিয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় সরকার কেবলমাত্র একটা প্রতীক। ছিটমহলে এসে আমি সেখানকার মানুষদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তারা ভারতে থাকতে চায় কিনা! উনারা তখন হ্যাঁ জানিয়েছিলেন। এর পরেই আমি কলকাতায় ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নেই; ছিটমহলের জন্য যা যা করার দরকার সবটাই করে দেওয়া হবে। এখন আপনারা নিজেদের অধিকার ও সম্মান নিয়ে বসবাস করছেন।’[
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভারত ভাগের চক্রান্তের অভিযোগও তুলেছেন মমতা। তার দাবি, ‘সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ সম্পর্কিত বিল আনছে। আমি একে সমর্থন জানাই, নিজেও এর জন্য লড়াই করে ছিলাম। কিন্তু এই বিলের সঙ্গে কেন ডিলিমিটেশন বিল আনা হচ্ছে? তার অর্থ, তুমি বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা করছ। সারা গোটা দেশকে খণ্ড খণ্ড করার চেষ্টা করছো। তাই, দুটো বিল একসঙ্গে হতে পারে না।’
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






