ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা যুদ্ধবিমান ও সামরিক স্থাপনা সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলিদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যে এটিকে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সামরিক প্রসিকিউটরদের দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্ত দুজন ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর তেল নফ এয়ারবেসে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মেকানিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘ইরানি গোয়েন্দাদের পক্ষে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে একজন সৈনিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুকে সহায়তা করা, শত্রুকে তথ্য সরবরাহ, বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করা এবং অতিরিক্ত আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় সৈনিকের বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, শত্রুকে তথ্য সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
যৌথ বিবৃতিতে শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা, আইডিএফ এবং পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে দুই বিমানসেনা দাবি করেছেন, অস্ত্র-সংক্রান্ত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানি পরিচালকদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তবে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি পরিচালকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও তারা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা বন্ধ করেনি।’
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইরানি এক এজেন্টকে ‘যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত তার সামরিক প্রশিক্ষণের উপকরণ, পাশাপাশি সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও এলাকার নথিপত্র’ সরবরাহ করেন একজন সৈনিক । কান পাবলিক ব্রডকাস্টার জানায়, এর মধ্যে একটি ইসরায়েলি বিমানের ইঞ্জিনের বিস্তারিত চিত্র এবং একজন বিমান প্রশিক্ষকের মুখসহ কিছু আলোকচিত্র ছিল।
কান আরও জানায়, অভিযুক্ত দু’জনকে সাবেক আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিল ইরানি এক এজেন্ট। তবে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল






