ঢাকা   রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছে ইসরায়েল

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। ইরান-সংঘাতের সময় দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার এক নতুন উচ্চতার কথা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে। এতদিন এই নজিরবিহীন সামরিক মোতায়েনের বিষয়টি গোপন ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের অন্য যেকোনও দেশের চেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই বেশি লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইরান। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন আমিরাতের দিকে ছুড়েছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। তবু কিছু কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

এই ভয়াবহ হামলার মুখে আমিরাত তার মিত্রদের কাছে সহায়তা চাইতে বাধ্য হয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) আয়রন ডোমের ব্যাটারি এবং তা পরিচালনার জন্য কয়েক ডজন সেনা সদস্য পাঠাতে নির্দেশ দেন।

ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েলের বাইরে অন্য কোনও দেশে আয়রন ডোমের ব্যাটারি পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে অন্য কোনও দেশে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের নজিরও এটিই প্রথম। ইসরায়েলের দ্বিতীয় আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই আয়রন ডোম সিস্টেমটি ইরানের ছোড়া কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাই নয়, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। তারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান নেওয়া স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যাতে সেগুলো আমিরাত বা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে আঘাত হানতে না পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতিতে ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। তবে আমিরাতি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তাধারায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের হামলার হাত থেকে দেশরক্ষায় যারা সহায়তা করবে, তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখন ইতিবাচক।

এদিকে ইসরায়েলের ভেতরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ যখন ইসরায়েল নিজেও যুদ্ধের কবলে পড়ে ভারী হামলার শিকার হচ্ছিল, তখন নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমিরাতের সঙ্গে বিনিময় করার বিষয়টি বিতর্কিত হতে পারে। তবে ইসরায়েলি ও আমিরাতি উভয় দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালে শান্তিচুক্তির পর থেকে বর্তমানে দুই দেশের অংশীদারত্ব এখন সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে রয়েছে।

আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা তারেক আল-ওতাইবা আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটে (এজিএসআই) লেখা এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েল সেই দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম যারা আমিরাতকে প্রকৃত সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। তিনি লিখেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ব্যাপক সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় এবং কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে প্রকৃত মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।’

এই সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছেন আমিরাতের কর্মকর্তারা। এক জ্যেষ্ঠ আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এটি ভুলবো না।’

দ্বিতীয় আরেকজন আমিরাতি কর্মকর্তা জানান, এই যুদ্ধ তাদের জন্য একটি চোখ খুলে দেওয়া মুহূর্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি সত্যিকারের চোখ খুলে দেওয়ার মতো মুহূর্ত ছিল। আমাদের প্রকৃত বন্ধুরা কারা, তা দেখার সুযোগ হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোও আমিরাতকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিল।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!