রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মস্কো থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউলিয়া শাপোভালোভা জানিয়েছেন, এই সফরে আরাগচি রাশিয়ার কাছে প্রকাশ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে নতুন এক দফার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
বর্তমানে রাশিয়া এই সংঘাত নিরসনে নিজেকে একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের এই বৈঠকগুলো মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার মাঝে এই নতুন আলোচনার প্রস্তাব এক নতুন কূটনৈতিক মোড় নিয়ে এসেছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ আলোচনার উদ্দেশ্য হিসেবে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
মস্কো বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তেহরানকে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার এই মধ্যস্থতা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি ইরানকে একটি নিরাপদ প্রস্থান বা ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। পুতিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাগচির এই দীর্ঘ বৈঠক দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্রতাকে আরও জোরালো করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে যখন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত একটি টেকসই চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যু ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইছে। তবে ইরান এই আলোচনায় বসার আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা দাবি করছে। রাশিয়ার এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা তেহরানের জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে, কারণ মস্কো এই সংকটে শুরু থেকেই ইরানের কৌশলগত অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের এই আলোচনার ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। যদি রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের গত কয়েক মাসের ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। তবে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ও আঞ্চলিক প্রভাবের মতো মৌলিক ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আব্বাস আরাগচির এই সফর এবং রাশিয়ার সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা এটাই নির্দেশ করে, পর্দার আড়ালে একটি বড় ধরনের সমঝোতার প্রচেষ্টা চলছে যা অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
বার্তা বাজার/এস এইচ






