ঢাকা   সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মুসলিম দেশগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: পেজেশকিয়ান

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০১:৫২ এএম

মুসলিম দেশগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিভেদের রাজনীতি করছে এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি করে তাদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি পশ্চিমা শক্তি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত নাশকতামূলক অভিযানের অভিযোগ তোলেন।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সরাসরি সামরিক পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যাহত করা এবং শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানে হামলা চালানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসকের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং ইসলামি ব্যবস্থাকে দুর্বল ও উৎখাত করার চেষ্টা করা।’

এদিকে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর পুনরায় হামলা শুরু করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার জন্য নিজেদের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক কঠোর বার্তায় শেকারচি বলেন, পুনরায় কোনও বহিরাগত আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাবে অভ্যন্তরীণভাবে এক বিপর্যয়কর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। তিনি বলেন, ‘মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের জানা উচিত যে তার হুমকি যদি সত্যি হয় এবং ইসলামি ইরানে আবারও আক্রমণ করা হয়, তবে তার দেশের সম্পদ ও সামরিক বাহিনীকে নজিরবিহীন, আক্রমণাত্মক, আকস্মিক ও তুমুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’

শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা অব্যাহত

রবিবার ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট কোনও ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন একটি পাঁচ দফার তালিকা পেশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে-ইরানকে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্র সচল রাখতে হবে এবং তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

ফার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে থাকা ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ সম্পদের ‘এমনকি ২৫ শতাংশও’ ছাড় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজি হয়নি। রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমটি আরও বলেছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলোকে একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছে, কোনও শান্তির প্রস্তাব হিসেবে নয়।

মেহর নিউজ এজেন্সিও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু সুবিধা বা ছাড় চাইছে যা তারা যুদ্ধে জয়ী হতে না পেরে হাতছাড়া করেছে, অথচ বিনিময়ে বাস্তবে কিছুই দিচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ইরান তার প্রস্তাবে ইসরায়েলের লেবানন অভিযানসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ করার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের আরোপিত সব অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছিল, তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই তারা মূলত বন্ধ করে রেখেছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!