চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনির। শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আইএসপিআর জানায়, তেহরানে পৌঁছানোর পর ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সফরকালে আসিম মুনির ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান আলোচনা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও শান্তি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিকে কেন্দ্র করেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় বৈঠকটি, তবে আলোচনা শেষ হয়নি।
অচলাবস্থা কাটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইসলামাবাদ। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গত এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফর করেন। সফরকালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছেন, তারা সবাই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চাইলেও এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বিকল্প পরিকল্পনা থাকতে হবে।’
রুবিও আরও জানান, ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানই বর্তমানে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে দেশটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও শুক্রবার তেহরানে পৌঁছেছে। রয়টার্সের এক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে কাতার যুদ্ধ বন্ধ ও বাকি বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: জিও নিউজ
বার্তা বাজার/এস এইচ






