ঢাকা   শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

এইদিনে একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

এইদিনে একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান

বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৯টি দেশের কাছে রয়েছে ইতিহাসের সব থেকে বিধ্বংসী ও ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র। এ অস্ত্র এতটাই ভয়াবহ যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নির্মূল করে দিতে পারে একটি পুরো শহরকে। শুধু নির্মূলই নয়, আশপাশের এলাকাসহ বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে অত্যন্ত ক্ষতিকর রেডিয়েশন যা প্রাণীর জীবিত থাকা কিংবা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

১৯০০ শতকের ৪০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর একে একে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশ এই অস্ত্রের সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারলেও, এ তালিকায় ছিল না কোনো মুসলিম দেশের নাম। তবে ১৯৯৮ সালের আজকের এই দিনে প্রথম ও একমাত্র মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রধারীর তালিকায় নিজের নাম লেখায় পাকিস্তান।

তবে এই পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। ছিল পদে পদে বাধা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সংকট এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ভয়। মূলত পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রের স্বপ্ন দেখা শুরু করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের পর। পরাজয় ঘটলেও যুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে মেনে নিতে পারেনি দেশটি। এমনটিই জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম।

ডনের খবরে বল হয়, ১৯৭১ সালের ট্রমা থেকে জন্ম নেয়া পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি একটি সহজ প্রতিশ্রুতির ওপর নির্মিত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, দেশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যে কোনও আগ্রাসনকে অকল্পনীয় করে তোলা। এরপর বহু চেষ্টার ফল হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারলেও পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনাকে দায়ী করা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বাধ্য হয় এই বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে। মূলত ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো ভারত পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। তবে পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে ১৯৯৮ সালের ১১ মে আবার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।

এরপর ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মাথায় নিয়ে এবং শত্রুকে নিজেদের অবস্থান ও শক্তি জানান দিতে মাত্র ১৭ দিন পর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের ২৮ মে বেলুচিস্তানের চাগাই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান। ইতিহাসে সপ্তম দেশ এবং প্রথম মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে এ সক্ষমতায় নাম লেখায় দেশটি।

দিনটিকে ‘ইয়ুম-ই-তাকবীর’ হিসেবে ঘোষণা করে ইসলামাবাদ। আজও ১৯৯৮ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক পরীক্ষার ২৮তম বার্ষিকী স্মরণে পুরো পাকিস্তানে পালিত হচ্ছে দিনটি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার এক বার্তায় বলেন, ‘এই দিনটি পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই দিনে সমগ্র জাতি পারমাণবিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে অটল সংকল্প, জাতীয় ঐক্য এবং অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে।’

ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালের ২৮ মে, ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার জবাবে সফলভাবে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান, যা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্যই পুনরুদ্ধার করেনি, বরং বিশ্বকে এই স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে যে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কখনও আপস করবে না।’

পাক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই দিনটি এই সাক্ষ্য বহন করে যে, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের স্বপ্নে দেখা এবং কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এই জাতির প্রতিরক্ষা শক্তিশালী ও সুরক্ষিত হাতেই রয়েছে।’

পারমাণবিক কর্মসূচিতে জড়িতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে ছিলেন শহিদ জুলফিকার আলি ভুট্টোর দূরদর্শী নেতৃত্ব, মুহাম্মদ নওয়াজ শরিফের দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাহসী নেতৃত্ব এবং আমাদের জাতীয় বীর ড. আবদুল কাদির খান ও ড. সামার মুবারকমন্দ। এছাড়াও ছিলেন অগণিত বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, যাদের অবদান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাকে দুর্ভেদ্য করে তুলেছিল।’

সূত্র: জিও নিউজ, ডন

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!