ঢাকা   শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি জোটে যোগ দিয়েছিল আমিরাত, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি জোটে যোগ দিয়েছিল আমিরাত, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) শুরু থেকেই সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং ইরানের অভ্যন্তরে ডজনখানেক বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আবুধাবি কেবল পরোক্ষ সহায়তাই করেনি, বরং মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর পাশাপাশি কার্যত তৃতীয় প্রধান অংশীদার হিসেবে সামরিক অভিযানে সক্রিয় ছিল। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আমিরাতের এই সামরিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই হামলাগুলো সমন্বয় করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে এই যৌথ হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে ইসরাইলের সাথে সমন্বয় করে চালানো একটি হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যার ফলে ওয়াশিংটন পরবর্তীতে ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়েছিল।

এই যুদ্ধের আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। তবে এই প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধ শুরু হতেই আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে আসে। আমিরাতের এই আগ্রাসী ভূমিকার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পুরো সংঘাতের সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানের প্রায় ২ হাজার ৮০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত সহ্য করতে হয়েছে।

ইউএই-এর এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ফাটলকেও স্পষ্ট করে তুলেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একান্ত গোপন এক অভিযোগে জানায় যে, আমিরাতের এসব হামলার কারণে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের মুখে পড়তে পারে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি খাত, যা বৈশ্বিক তেল বাজারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলবে। এর ফলে রিয়াদ সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আবুধাবির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ওয়াশিংটনকে অনুরোধ জানায়। একই সাথে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে সৌদি আরব যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ।

এদিকে ইরানের ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন রাজস্বে ধস এবং আবাসন খাতে মন্দার কারণে দেশটির প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক খাতগুলো এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক কোম্পানি কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের মূলধন হারিয়ে গেছে এবং এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির বিমান কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন