যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও দেশটি তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে সেসব লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানার অধিকার তেহরানের রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনা চলছে না এবং পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কখন পদক্ষেপ নিতে হবে সেটাও ইরান জানে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেসব সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার ইরানের রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। কুয়েতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাঘাই বলেন, ‘অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা সম্পদ ব্যবহার করতে না দেয়ার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত আইনি বাধ্যবাধকতা সব রাষ্ট্রেরই রয়েছে।’
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। বাঘাই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ঘাঁটি থেকে চালানো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ইরান যে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে, তার নিন্দা জানিয়ে ইইউ যে বিবৃতি দিয়েছে তা ‘ভণ্ডামিপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’। তবে তিনি ইইউয়ের কোন বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
এর আগে ইরানের কুয়েতে হামলার অভিযোগের পর ইইউর কূটনৈতিক বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছিল, এ ধরনের হামলা কুয়েতের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি’ সৃষ্টি করে।
এদিকে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কখন পদক্ষেপ নিতে হবে, আমরা তা জানি। পারমাণবিক কর্মসূচির খুঁটিনাটি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার যুদ্ধের অবসান ঘটানো।’
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, ‘এমনকি আজ সকালেও’। বাঘাই বলেন, ‘ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা প্রয়োজন মনে করলে যে কোনও পদক্ষেপ নেব।’
এর আগে ইরানের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন স্থাপনায় হামলার কথা স্বীকার করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা এসব হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক অভিযান’ বলে বর্ণনা করে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং মিত্র দেশ ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা চালানো থেকে বিরত না রাখাই আসলে যুদ্ধবিরতি না মানার স্পষ্ট প্রমাণ।
গালিবাফ লিখেছেন, ‘নৌ অবরোধ এবং লেবাননে গণহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধির ঘটনাই যুদ্ধবিরতি চুক্তি না মানার স্পষ্ট প্রমাণ’। তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক সিদ্ধান্তেরই মূল্য আছে এবং সেই মূল্য একসময় পরিশোধ করতে হয়। সবকিছুরই পরিণতি রয়েছে।’
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






