রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
এর আগে সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে পুলিশের কড়া পাহারায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার চায়। তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত চাইলে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন শুনানি নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে পারেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’
পিপি আরও বলেন, মামলাটির গুরুত্ব ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে বিচারকাজ কত দ্রুত শেষ হবে, সেটি শেষ পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ধারণা, সাক্ষীদের উপস্থিতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা না হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






