যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্বাক্ষর করেনি বলে জানা গেছে। তবে তার স্বাক্ষর ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় এ ধরনের চুক্তিতে সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি স্বাক্ষর করার প্রচলন নেই।
সোমবার (১৫ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্বাক্ষর ছিল না।
তিনি বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এ ধরনের চুক্তিতে সর্বোচ্চ নেতার স্বাক্ষর করাটা তার দায়িত্বের অংশ নয়। তাই বর্তমান সমঝোতা স্মারকে তার স্বাক্ষর না থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং প্রত্যাশিতই ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা বলেন, ইরানের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্বদানকারী এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বর্তমানে দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। সে কারণেই তিনি ইরানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সমঝোতা স্মারকে ভার্চুয়ালভাবে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং গালিবাফ।
কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যাতে আলোচনার প্রক্রিয়া এবং এর সফল বাস্তবায়নের প্রতি তার অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও আগামী শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
সমঝোতা স্মারকটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষই এটিকে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
সূত্র : সিএনএন






