ইরান যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে অন্তরালে থাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অবশেষে জনসমক্ষে আসতে পারেন। আগামী সপ্তাহে তেহরানে তার পিতা তথা প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণসভায় তার উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিহত হওয়া ৮৬ বছর বয়সি সাবেক শীর্ষ নেতার এই স্মরণসভাটি তার উত্তরসূরির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, শহীদ নেতার স্মরণে ইসলামিক বিপ্লবের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তেহরানের মুসাল্লায় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত একটি বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
গত সপ্তাহে আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ৫৬ বছর বয়সি এই নতুন শীর্ষ নেতাকে কোথাও দেখা যায়নি, যা সবার মনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মুসাল্লায় আয়োজিত সেই বিশাল জানাজায় মোজতবার তিন ভাই মোস্তফা, মেসাম এবং মাসুদ খামেনিকে তাদের পিতা, বোন, ভগ্নিপতি, ভাইয়ের স্ত্রী এবং ১৪ মাস বয়সি এক নাতনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে জানাজার নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল।
দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে তেহরানসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাট ও আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পশ্চিমাবিশ্বের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরানকে লৌহহস্তে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষ বিদায়ে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
পিতার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা লাভ করলেও মোজতবা খামেনি এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। যুদ্ধের শুরুর দিকে হওয়া সেই প্রাণঘাতী হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়, যার পর থেকেই তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখেছেন।
এমতাবস্থায়, চলতি সপ্তাহে পিতার এই রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় যদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা শেষ পর্যন্ত যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ইরানের সর্বোচ্চ পদ গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক এবং ঐতিহাসিক জনসমক্ষ উপস্থিতি।
সূত্র: এনডিটিভি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






