ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, জুলাই গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) নোয়াখালী কলেজের ২০২৫-২৬ সেশনের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন বরণ ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আসবো আসবো বলে শুনছি। এদিকে সরকার জুলাই গণহত্যার দায়ে তার জন্য ফাঁসির দড়িও প্রস্তুত করছে। আমরা চাই তিনি (শেখ হাসিনা) তাড়াতাড়ি আসুক আর রায়ও দ্রুত কার্যকর হোক।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে শিবির সভাপতি বলেন, আপনাকে আসতেই হবে এবং বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছেন, তার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আপনি দেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন তা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আদালতও আপনার বিচারের রায় ঘোষণা করে রেখেছে।
সাদ্দাম আরও বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি। তিনি (শেখ হাসিনা) একটা বিষধর সাপ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। মাঝে মাঝে বার্তা দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন। ডিসেম্বরে দেশে আসছেন। আমরা জানি তার এ ডিসেম্বর কেয়ামত পর্যন্তও দেশে আসবে না।
শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে দেশের প্রশাসনগুলোতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে। সাদা দল না করলে কোনো জায়গায় ভিসি হতে পারবে না। দুনিয়াতে আর কোনো শিক্ষক নেই যাদের কোয়ালিটি আছে। শুধুমাত্র ছাত্রদল-বিএনপি করলে কোয়ালিটি ঠিক থাকে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এমন সিস্টেমকে আমরা ধিক্কার জানাই। নির্বাচন না দিয়ে তারা নিজেদের প্রশাসক বসিয়েছে। এ সিস্টেমের নতুন বন্দোবস্ত আমরা চাইনি। ছাত্ররা এ জন্য জীবন দেয়নি।
ছাত্র সংসদ ও ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে কী হয়, সেগুলো আপনারা ডাকসু, চাকসু, রাকসুতে দেখেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পারছেন। সেখানে কোনো হল-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট দখল চলে না। চাঁদাবাজি- টেন্ডারবাজি চলে না। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার ব্যবসাসহ সবকিছু যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন তাদের নেতার মিছিল করার জন্য গাঁজাখোর টোকাইদের ৩০০-৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করে নেতৃত্ব জাহির করছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী শহর জামায়াতের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহবুব, সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি আবদুল কাদের আল আমিন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।
বার্তা বাজার/এস এইচ






