ঢাকা   বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আল-আকসা দখলের পথে ইসরায়েল: মুসলিম বিশ্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

আল-আকসা দখলের পথে ইসরায়েল: মুসলিম বিশ্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক শিগগিরই ইসরায়েলের দখলে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিয়ে আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জর্ডান। দেশটির আশঙ্কা, পবিত্র স্থানটির বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনা হলে তা বড় ধরনের ধর্মীয় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জর্ডানের এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের ধারাবাহিক প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা। জর্ডানের হাশেমী রাজপরিবারের তত্ত্বাবধানে থাকা মসজিদটি ও এর প্রাঙ্গণে কেবল মুসলিমদের নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে।

গত ২৩ জুলাই ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে ধর্মীয় ডানপন্থি প্রায় দুই হাজার ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এসব ইহুদিদের অধিকাংশই ছিল অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী। তাদের কাছে ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত এলাকাটিতে হামলা চালায় তারা। সেখানে তারা প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচারও পালন করে। জর্ডানের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে আধুনিক ইতিহাসে ওই স্থানের সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

‘টেম্পল মাউন্ট’ এলাকায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনে নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও উদ্বিগ্ন আম্মান। আগামী সেপ্টেম্বরে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে জর্ডানের আশঙ্কা।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটি একটি নিরন্তর বিপজ্জনক হুমকি যা আমরা আমাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় দিয়ে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি। আমরা সতর্ক করছি, স্থিতাবস্থায় হস্তক্ষেপ একটি ধর্মীয় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যা ফিলিস্তিন ও জর্ডান ছাড়িয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে প্রতিধ্বনিত হবে।’

আল-আকসা প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধানে জর্ডানের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। অটোমান আমল থেকে এ দায়িত্বের সূত্রপাত হলেও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এবং ১৯৯৪ সালের ইসরায়েল-জর্ডান শান্তিচুক্তিতে জর্ডানের এই তত্ত্বাবধান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জর্ডানের উদ্বেগ শুধু জেরুজালেমে সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে উচ্ছেদ বা স্থানান্তরের আশঙ্কাও করছে আম্মান।

এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি জর্ডানে প্রবেশ করতে পারেন, যা দেশটির অর্থনীতি, রাজনীতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। ফিলিস্তিনিদের জর্ডানে স্থানান্তরের যেকোনো প্রচেষ্টা তাদের দেশ থেকে বিতাড়ন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করবে বলে জানান সাফাদি। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের পূর্ববর্তী ঢেউ থেকে আসা জর্ডানীয়রা ইতোমধ্যেই জর্ডানের ১ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি।রাজনৈতিক সংবাদ

সাফাদি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো এটি একটি রেড লাইন যা আমরা অতিক্রম করতে দেব না। আমরা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি যে, ইসরায়েলিদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের জর্ডানে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে যা যা করা দরকার, আমরা তাই করব। এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইন এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে থাকার অধিকারের লঙ্ঘনই হবে না, বরং এটি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।’

এদিকে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের গণহত্যার বিষয়ে জর্ডান সরকারের সমালোচনার প্রতিশোধ হিসেবে পানি সরবরাহ অর্ধেক করে দিয়েছে তেল আবিব। ফলে পশ্চিম তীরের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যয় ইসরায়েল বাড়িয়ে দিয়েছে।

জর্ডানের ইসলামপন্থি উম্মা পার্টির সংসদ সদস্য ও মুখপাত্র দিমা তাহবুব বলেন, ‘জায়নবাদী রাষ্ট্রের পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা, পানি চুক্তিতে জর্ডানের অংশ অস্বীকার এবং আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধানের প্রতি প্রতিদিনের বাধার কারণে এখানে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধী মনোভাব আগের চেয়েও অনেক বেশি বেড়েছে। প্রতিদিন বসতি স্থাপনকারীরা আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ করছে এবং একই সাথে ফিলিস্তিনি জেরুজালেমবাসীদের মসজিদে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন