কত দাম হতে পারে ১৮ প্রো-এর? যা জানা গেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মেমরি চিপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় আইফোন ১৮ প্রো-এর উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে।
সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ ক্রেতাদের ওপর চাপানোর কথা বিবেচনা করছে অ্যাপল—এমনটাই উঠে এসেছে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে। তবে নতুন আইফোনের দাম বাড়বে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
ব্লুমবার্গের প্রযুক্তি সাংবাদিক মার্ক গুরম্যানের তথ্য অনুযায়ী, মেমরি চিপসহ বিভিন্ন উপাদানের দাম বৃদ্ধির কারণে অ্যাপল আসন্ন কিছু আইফোনের মূল্য বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সও জানিয়েছে, স্মার্টফোন নির্মাতাদের ওপর যন্ত্রাংশের বাড়তি দামের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
ট্রেন্ডফোর্সের হিসাব অনুযায়ী, ২৫৬ জিবি আইফোন ১৮ প্রো-এর যন্ত্রাংশের ব্যয় আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি হতে পারে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ মেমরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোন ১৮ প্রো-এর মোট যন্ত্রাংশ ব্যয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশই মেমরি খাতে যেতে পারে। এক বছর আগে এ হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ আইফোনের উৎপাদন ব্যয়ে মেমরি চিপের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে যন্ত্রাংশের খরচ ৩৮ শতাংশ বাড়ার অর্থ এই নয় যে ফোনটির খুচরা দামও একই হারে বাড়বে। কারণ একটি স্মার্টফোনের চূড়ান্ত মূল্যের সঙ্গে উৎপাদন, সফটওয়্যার, পরিবহণ, বিপণনসহ আরও নানা ব্যয় যুক্ত থাকে।
বাড়তি উৎপাদন খরচ সামাল দিতে অ্যাপলের সামনে দুটি পথ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চাইলে বাড়তি ব্যয় নিজেরা বহন করে মুনাফার হার কমাতে পারে। আবার খরচের একটি অংশ পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারে।
ট্রেন্ডফোর্সের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ধরে রাখতে অ্যাপল কম মুনাফা নিয়েও আইফোন বিক্রির পরিমাণ ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।
নতুন মডেলের পাশাপাশি পুরনো আইফোনগুলোর দামেও পরিবর্তন আসতে পারে। সাধারণত নতুন আইফোন বাজারে এলে আগের প্রজন্মের মডেলের দাম কমায় অ্যাপল। তবে বর্তমান যন্ত্রাংশের বাজার পরিস্থিতি মূল্য নির্ধারণের সেই কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে।
এখনো আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের আনুষ্ঠানিক দাম, স্পেসিফিকেশন বা নির্দিষ্ট বাজারজাতের তারিখ ঘোষণা করেনি অ্যাপল। তাই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির তথ্যকে আপাতত বাজার বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মেমরি চিপের দাম আগামী সময়ে কোন পর্যায়ে থাকে এবং অ্যাপল বাড়তি খরচ কীভাবে সামলায়, তার ওপরই নতুন আইফোনের চূড়ান্ত দাম অনেকটা নির্ভর করবে






