ঢাকা   রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

শুধু মুসলমানদেরই নিশানা করা হচ্ছে: মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ওয়াইসির ক্ষোভ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

শুধু মুসলমানদেরই নিশানা করা হচ্ছে: মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ওয়াইসির ক্ষোভ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সরকারি কার্যালয় চত্বরে থাকা একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সর্বভারতীয় মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সভাপতি ও হায়দারাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে আদালতের নির্দেশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সাহারানপুর জেলা প্রশাসনের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অনুমোদনহীনভাবে নির্মিত হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ মেনেই সেটি সরানো হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াইসির অভিযোগ, মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষেত্রেই বেছে বেছে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াইসি বলেন, শুধু ইচ্ছা হয়েছে বলেই কোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেই অধিকার কি মুসলমানদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য নয়?

ওয়াইসির দাবি, ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক নথিতে ওই স্থানে মসজিদের অস্তিত্বের উল্লেখ রয়েছে। তার বক্তব্য, সাহারানপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণের পর নয়, তার আগেই সেখানে মসজিদটি ছিল। ফলে মসজিদটির দীর্ঘদিনের অস্তিত্ব এবং ধর্মীয় ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল।

মসজিদটির আইনি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের কারণে মসজিদটি ওয়াক্‌ফ হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার দাবি রাখে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দখলের ভিত্তিতেও আইনি অধিকার তৈরি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

ওয়াইসি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ করছে। মসজিদের পাশাপাশি দরগা ও কবরস্থানও ভেঙে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। তার ভাষায়, শুধু মুসলমানদেরই নিশানা করা হচ্ছে। মসজিদ এবং মুসলমানদের অস্তিত্বের প্রতিই এক ধরনের বিদ্বেষ কাজ করছে।

মসজিদ ভাঙার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি। তার বক্তব্য, মসজিদ কর্তৃপক্ষকে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি অনুযায়ী তাদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ না দিয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত সাহারানপুরের সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের জুলাই মাসের এক আদেশকে কেন্দ্র করে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, মসজিদটি প্রায় ৩১৫ বর্গমিটার সরকারি জমি দখল করে রয়েছে। মসজিদ সরানোর পাশাপাশি প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল জেলা আদালত খারিজ করে দেয়।

এরপর শনিবার ভোরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পুরো অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ওয়াইসি জানিয়েছেন, তার দল সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পথে এই ঘটনার মোকাবিলা করবে। ফলে সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার ঘটনা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে রাজ্যটিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে এই বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন