ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত ও নেপাল, ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী নেপালেও। কয়েক দিন আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর নতুন করে ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়েছে অঞ্চলটিতে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস); এদিকে অঞ্চলটি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার রেশ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, যে বন্যায় নেপালে ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এর মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এদিকে, গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪৫।
নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নিখোঁজদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও পাহাড়ধসে সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর দেশটিতে উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীও রয়েছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর একটি টানেলের ভেতর আটকে থাকা দুই নেপালিকে এবং শনিবার এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় আরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে।
হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, হিমবাহ ও হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ থেকে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসা, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। হিমালয় অঞ্চলেও এই ঝুঁকি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।






