হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার নতুন খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আজ রোববার ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলার সময় একটি জাহাজে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
হামলায় জাহাজটির কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং এর ক্রুদের কী অবস্থা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর এক দিন আগে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ইরাক ও সৌদি আরব উভয়েই জানিয়েছে, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে। ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে।
প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলের দিকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে অনেকাংশে বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের জন্য এ পাইপলাইনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।
সৌদি পাইপলাইনে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তেল রপ্তানিতে এর কী প্রভাব পড়েছে, তা জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য সম্ভবত ইরান দায়ী। তবে ইরান সরাসরি এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এদিকে সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলে হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। এতে একটি মসজিদসহ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি যুবরাজের মার্কিন সহায়তা চাওয়া
পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চান।
তবে আপাতত সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পও যুবরাজের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হুথিরাও তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা শুক্রবার বাব আল-মান্দাব প্রণালির মাঝখানে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে থাকা এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ নিয়ে ইরানের শর্ত
এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে বৈঠক থেকে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ওমানের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে হরমুজসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তবে সেখানে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তবে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হলে প্রণালিটি খুলবে না বলে তাসনিমকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
ইরান চায়, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে তারা ফি আদায় করতে পারবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি মেনে নিতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এআর





