দুঃসংবাদ নতুন আইফোন ১৮ প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য
অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের একটি অংশ ডিভাইসের স্পিকার থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনার অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিকার থেকে মাঝে মাঝে ‘ক্র্যাকল’, হালকা ‘টিক’, ‘পপ’ বা এলোমেলো ক্লিকিং ধরনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ব্যবহারকারীদের দাবি, সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ইয়ারপিস স্পিকারে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে নিচের স্পিকারেও একই ধরনের শব্দ শোনা গেছে। আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স—উভয় মডেলেই এ সমস্যা দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শোনা যাচ্ছে শব্দ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে একইভাবে দেখা যাচ্ছে না।
কিছু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা প্রায় নিয়মিত এ ধরনের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু কাজের সময় সমস্যাটি লক্ষ্য করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইট স্ক্রল করা, বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার, নোটিফিকেশন পাওয়া কিংবা কিবোর্ড চালু হওয়া।
এ ছাড়া মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়ও কিছু ব্যবহারকারী স্পিকারে অস্বাভাবিক শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, এয়ারপ্লেন মোড চালু ও বন্ধ করা কিংবা দ্রুত স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা পরিবর্তনের সময়ও এ ধরনের শব্দ শোনা গেছে।
বদলি ডিভাইসেও একই সমস্যা
কিছু ভুক্তভোগী ব্যবহারকারী তাদের আইফোন অ্যাপলের কাছে ফেরত দিয়ে নতুন ডিভাইস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বদলি হিসেবে পাওয়া ডিভাইসেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সমস্যাটি সফটওয়্যারজনিত নাকি হার্ডওয়্যারসংক্রান্ত।
সম্প্রতি অ্যাপল iOS 27.0.1 সংস্করণ উন্মুক্ত করে। ওই আপডেটটি আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের একটি পৃথক ত্রুটি সমাধানের জন্য আনা হয়েছিল, যেখানে ফেস আইডি শনাক্তকরণ ব্যর্থ হলে কিছু ডিভাইস পুনরায় চালু হয়ে যেত। তবে নতুন স্পিকার-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সর্বশেষ আপডেটের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হয়নি।
এখনো কোনো মন্তব্য করেনি অ্যাপল
এ পর্যন্ত স্পিকারের ক্র্যাকলিং বা ক্লিকিং শব্দের অভিযোগ নিয়ে অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। কতসংখ্যক ব্যবহারকারী এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বা সব ডিভাইসে একই কারণে সমস্যাটি হচ্ছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সমস্যাটি সফটওয়্যারজনিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো আইওএস আপডেটের মাধ্যমে এর সমাধান আসতে পারে। তবে হার্ডওয়্যার ত্রুটি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইস মেরামত বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
এ মুহূর্তে অ্যাপলের পক্ষ থেকে কোনো রিকল (পণ্য প্রত্যাহার) কর্মসূচির ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।






