ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান
Authorনিউজ রুম

আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

অর্ধেক ভোটার নারী খালেদা জিয়ার ‘শিক্ষা মডেল’ ও আজকের নির্বাচনী সমীকরণ

Authorনিউজ রুম

আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পিএম

<span class="nhu-kicker" style="--nhu-color:#ff0000;">অর্ধেক ভোটার নারী</span><span class="nhu-sep">•</span> খালেদা জিয়ার ‘শিক্ষা মডেল’ ও আজকের নির্বাচনী সমীকরণ
আশিক ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। ভোটের মাঠে এবার রাজনৈতিক দলগুলোর মূল টার্গেট দেশের নারী সমাজ। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী—যাদের সংখ্যা ৬ কোটি ২৯ লাখ। এই বিশাল ভোট ব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতসহ বড় দলগুলো।

তবে ভোটের এই সমীকরণে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় কি চাপা পড়ে যাচ্ছে? নারী ভোটারদের মন জয়ে দলগুলো যখন নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন নারী শিক্ষার সেই ‘আলোকবর্তিকা’ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী অবদান নিয়ে আলোচনা যেন কিছুটা ম্লান। অথচ আজকের নারী জাগরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল তাঁরই হাত ধরে।

ভোটের মাঠে বিএনপি বনাম জামায়াত
নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিএনপি তাদের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। জাতীয় ঐকমত্যের আলোচনায় ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের প্রস্তাব থাকলেও বিএনপি ১০ জন নারীকে ধানের শীষের প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয় মূল্যবোধ ও তৃণমূলে প্রতিনিধিত্বের কথা বললেও কোনো আসনেই নারী প্রার্থী দেয়নি।

অন্ধকার ভেদ করে আলোর যাত্রা
৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চিত্রটা আজকের মতো ছিল না। সে সময় মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের ভর্তির হার ছিল মাত্র ২৮ শতাংশ, আর ঝরে পড়ার হার ছিল উদ্বেগজনক। সমাজ মনে করত, মেয়েদের পড়াশোনা মানেই অর্থের অপচয়। ঠিক সেই সময়ে, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি অনুধাবন করেছিলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অন্ধকারে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

উপবৃত্তি: যে জাদুকরী সিদ্ধান্তে বদলে গেল দৃশ্যপট
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (FSSAP)’ বা মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি ছিল বিশ্বের বুকে এক অনন্য নজির।
এই কর্মসূচির মূল মন্ত্র ছিল:

  • মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ।
  • মাসিক উপবৃত্তি প্রদান।
  • বই ও পরীক্ষার ফি সহায়তা।

শর্ত ছিল ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি এবং অবিবাহিত থাকা। এর ফলাফল ছিল বিস্ময়কর। বাল্যবিবাহের হার নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করে এবং মাধ্যমিকে মেয়েদের ভর্তির হার দ্বিগুণ হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সাফল্য
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর ২০২২ সালের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়ার এই প্রকল্প ব্যয়ের তুলনায় ২০০ গুণ বেশি সুফল বয়ে এনেছে। এমনকি জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান ২০০২ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, “বাংলাদেশে উপবৃত্তি প্রকল্পটি অলৌকিক কাজ করেছে। এটি লিঙ্গ বৈষম্য প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।”

আজকের নারীশক্তি ও খালেদা জিয়ার দূরদর্শিতা
আজ যে লাখ লাখ নারী তৈরি পোশাক শিল্পে (RMG) অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছেন, কিংবা প্রশাসন ও করপোরেট জগতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তার বীজ রোপিত হয়েছিল সেই নব্বইয়ের দশকেই। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, মেয়েদের জন্য আলাদা ক্যাডেট কলেজ স্থাপন এবং নারীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রবর্তন ছিল খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল।

উপসংহার
রাজনীতির মাঠে আজ হয়তো স্লোগানের ভিড়, কিন্তু বাংলাদেশের নারী শিক্ষার ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক ধ্রুবতারা। ফোর্বসের তালিকায় একসময় বিশ্বের ২৯তম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে স্থান পাওয়া এই নেত্রী শুধু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন নারী জাগরণের এক স্বপ্নদ্রষ্টা। আজকের নির্বাচনে নারী ভোটাররা যখন ব্যালট পেপারে রায় দেবেন, তখন অবচেতন মনে হলেও সেই ‘উপবৃত্তি’ আর ‘বিনা বেতনের’ দিনগুলোর কথা হয়তো অনেকের স্মৃতিতে ভেসে উঠবে। কারণ, আলো ছড়িয়ে দিলে অন্ধকার কাটবেই—এটাই ছিল তাঁর দর্শন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!