কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ধীরগতির জন্য ভারতীয় ঠিকাদারের আর্থিক সংকট, নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতি ও ব্যয়সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ঠিকাদারের পাওনা ৪৫ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরবরাহের অনুরোধে ভারত আশ্বাস দিয়েছে।
দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে ওয়াগন ব্যবহারের পাওনা নিয়েও হিসাবের অমিল রয়েছে। ভারতের দাবি, ২০২৬ সালের জুনে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ রুপি। অন্যদিকে বাংলাদেশের হিসাবে ভারতীয় রেলওয়ের কাছে নিট পাওনা ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যাত্রীবাহী ট্রেনের হিসাবেও পাওনা রয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দুই পক্ষ নিয়মিত হিসাব হালনাগাদ ও পাওনা সমন্বয়ে সম্মত হয়েছে।
যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়ে ভারতের প্রস্তাব
যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল নিয়েও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাস্টমস ও অভিবাসন সেবা চালু এবং পদ্মা সেতু দিয়ে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ জানিয়েছে, যাত্রীদের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্ধন এক্সপ্রেসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালাতে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল পরিবহনে লাগেজ ভ্যান বা ভিপিইউ সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত এতে সম্মতি জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে।
বৈঠকে রেলপথের বিদ্যুতায়ন, বিধিমালা হালনাগাদ, স্টেশন উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী আন্তসরকারি রেল বৈঠক ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।





