অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সফল আলোচনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন। তিনি জানান, সরকার তাদের সব দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং এখন আর আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।
অধ্যাপক রইছ উদ্দিন বলেন, “গত দুই দিন আমরা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে আলোচনা করেছি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আলোচনায় কিছু অস্পষ্টতা ছিল, যা আমাকে সন্তুষ্ট করেনি। কিন্তু আমাদের অনড় অবস্থানের কারণে শুক্রবার সকাল ১১টায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি অংশ নেয়। আমাদের তিনজন প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিল, যেখানে সব দাবির ব্যাপারে বিস্তৃত আলোচনা হয় এবং সরকার আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে।”
তিনি জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হবে। "আমরা আমাদের ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আন্দোলন প্রত্যাহার করবো," বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন বাজেট বাড়ানো, অস্থায়ী হল নির্মাণ, ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্রুত বাস্তবায়ন। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে পানি পান করিয়ে তাদের গণঅনশন ভাঙান এবং ঘোষণা দেন, “সরকার শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়েছে।”
এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৩ মে, মঙ্গলবার। সেদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসিতে গিয়ে দাবি উপস্থাপন করে। তবে সন্তোষজনক সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ১৪ মে হাজারো শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পথে গুলিস্তান ও মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের বাধা, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি প্রয়োগের মুখে পড়েন তারা। এতে শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।
পরবর্তীতে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং টানা তিনদিন কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসে।
ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “আমরা ভবিষ্যতেও দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নজরে রাখব। যদি গড়িমসি হয়, তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে ফিরবে। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে, সাত দিনের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





