ঢাকা   রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সংস্কারের পরিকল্পনা সহজ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

সংস্কারের পরিকল্পনা সহজ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। দুর্বল রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সমন্বয়ের ঘাটতি, গোষ্ঠীস্বার্থ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে অনেক ভালো উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীতে সানেম আয়োজিত নবম বার্ষিক অর্থনৈতিক সম্মেলনের অধিবেশনে ‘রোমান্সিং দ্য রিফর্ম: দ্য বাংলাদেশ স্টোরি’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “দেশে ‘সংস্কার’ এখন অনেকটাই প্রচলিত শব্দে পরিণত হলেও বাস্তব পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শক্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।” সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করাই আসল চ্যালেঞ্জ বলেও জানান তিনি।

সংস্কার প্রক্রিয়াকে ‘রোমান্স’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “এতে যেমন প্রত্যাশা থাকে, তেমনি থাকে নানা বাধা, ধৈর্য ও পুনরুদ্ধারের গল্প।” তার মতে, “সংস্কার কোনও এককালীন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি চলমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া, যা প্রেক্ষাপট, নেতৃত্ব ও জনমতের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংকট, বৈশ্বিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, বৈষম্য কিংবা দুর্নীতির মতো বাস্তবতা থেকেই সাধারণত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করে এর পরিধি, বাস্তবায়নের ধাপ, গতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মালিকানাবোধের ওপর।”

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে নানা ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন, বেসরকারিকরণ, ভ্যাট ব্যবস্থা চালু, বিনিময় হার সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে।”

এই মন্থরতার পেছনে তিনি ‘লুণ্ঠনমূলক উত্তরাধিকার’-এর কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক-ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যোগসাজশ সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ক্রোনি পুঁজিবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে।”

দেবপ্রিয় বলেন, “অনেক সংস্কার উদ্যোগ জোরালোভাবে শুরু হলেও পরবর্তীকালে গতি হারায় বা দিকচ্যুত হয়। এর পেছনে সরকারের অভ্যন্তরে সমন্বিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, অংশীজনদের যথাযথ সম্পৃক্ত না করা এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বাধা অতিক্রমে ব্যর্থতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।”

জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি দেখতে পারেন কোন সংস্কার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।” ব্যাংক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সাম্প্রতিক ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের সংশোধনীর সমালোচনা করেন। তার মতে, “সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের ওপর সাবেক মালিকদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা ‘অলিগার্কিক’ প্রভাবেরই প্রতিফলন।”

ক্রমবর্ধমান খেলাপি-ঋণ মোকাবিলায় রাজনৈতিকভাবে কঠিন হলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার করতে হবে।”

এছাড়া রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সরকারের সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!